Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অস্তিত্বহীন স্কুলের নথি দিয়ে দুই যুগ ধরে সরকারি চাকরি! ধৃত

যে স্কুলের আদৌ কোনও অস্তিত্ব নেই, সেই স্কুলের নথি দিয়ে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে সরকারি অফিসে চাকরি করছিলেন এক ব্যক্তি।

অস্তিত্বহীন স্কুলের নথি দিয়ে দুই যুগ ধরে সরকারি চাকরি! ধৃত
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যে স্কুলের আদৌ কোনও অস্তিত্ব নেই, সেই স্কুলের নথি দিয়ে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে সরকারি অফিসে চাকরি করছিলেন এক ব্যক্তি। চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসেবে কাজ করে আসা ওই ব্যক্তির নাম অপূর্ব চক্রবর্তী। নিউ বারাকপুরের বাসিন্দা তিনি। জাল নথি পেশ করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে বউবাজার থানার পুলিসের হাতে উঠে আসে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। বুধবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে সংশ্লিষ্ট মামলাটি উঠলে সরকারি কৌঁসুলি জানান, এই ব্যক্তি বছরের পর বছর রাজ্য সরকারের অফিসে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি কলকাতার কেআইটি বিল্ডিংয়ে হেলথ সার্কেলের অফিসে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দপ্তর কোনওভাবে ওঁর এই কর্মকাণ্ডের কথা জানতে পারে। তারাই অপূর্ববাবুর কাগজপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিস্তর গরমিল খুঁজে পায়। কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন প্রশ্নের কোনও সন্তাষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। তখন পুলিসে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। ধৃতের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই জাল নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। 

Advertisement

এরপরই সরকারি কৌঁসুলি জানান, যেসব স্কুলের শংসাপত্র সহ অন্যান্য নথি সরকারি দপ্তরে জমা দিয়ে তিনি কাজ করছিলেন, তদন্তে নেমে পুলিস সেরকম একটি স্কুলে যায়। কিন্তু একটি স্কুল খুঁজেই পাওয়া যায়নি। অন্য একটি স্কুলের নথিও জমা করা হয়েছিল। সেই নামে একটি স্কুলের খোঁজ মেলায় সেখানেও যান তদন্তকারীরা। কিন্তু সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, ওই নামে কোনও ছাত্র তাঁদের স্কুলে পড়াশোনা করেনি। এমনকী, অভিযুক্তের বাড়ির ঠিকানাও স্কুলের কোনও নথিতে নেই। তখন পুলিস বুঝতে পারে, জমা দেওয়া সব নথিই জাল। পুলিস আদালতে জানায়, বাজেয়াপ্ত নথি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ধৃতের তরফে যে কোনও শর্তে জামিনের আর্জি জানানো হয়। পুলিস সেই আবেদনের জোরালো আপত্তি জানায়। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে বিচারক ধৃতকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ