সংবাদদাতা, বনগাঁ: বড় হয়ে পুলিস হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। বাস্তবে তা না হওয়ায় নিজেই পুলিসের পোশাক কিনে গায়ে উঠিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দেড় বছর এভাবেই ভুয়ো পুলিস সেজে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়েছেন গাইঘাটা থানা এলাকার শিমুলপুরের চৌরঙ্গির বাসিন্দা অঙ্কিত ঘোষ। তবে শেষরক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার পুলিসের হাতে ধরা পড়ে যান সেই ভুয়ো পুলিস। বুধবার ধৃতকে বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।
সম্প্রতি গাইঘাটা থানার পুলিস জানতে পারে, চৌরঙ্গি এলাকার এক যুবক পুলিস পরিচয় দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর পোস্টিং বিকাশ ভবনে। এরপর অঙ্কিতের গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করে গাইঘাটা থানার পুলিস। হাতেনাতে ফলও পায়। গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মঙ্গলবার তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে গাইঘাটা থানার পুলিস। সেখানে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অঙ্কিতের কথায় প্রচুর অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পুলিসের চাকরির কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেননি সে। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে পুলিসের একাধিক পোশাক, নেম প্লেট সহ একাধিক ভুয়ো নথি উদ্ধার হয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অঙ্কিত পুলিস কনস্টেবলের পোশাক পরে এলাকায় ঘুরে বেড়াত। ওই উর্দিকে হাতিয়ার করেই নানা অসামাজিক কাজে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, পুলিসের পোশাক পরে বিভিন্ন পোজে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করতেন অঙ্কিত। পুলিসে চাকরি না করলেও পুলিস প্রশাসনের খুঁটিনাটি ছিল তাঁর নখদর্পণে। পুলিসের চাকরিতে কতগুলি ছুটি মিলতে পারে, কী কী সরকারি সুবিধা পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে তাঁর তুখোড় জ্ঞান। ধৃত যুবকের বাবা উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, ছেলে পুলিসে চাকরির পরীক্ষা দিয়েছিল। বলেছিল, পরীক্ষায় পাশ করেছে। পুলিসের পোশাক পরে ডিউটিতে যাচ্ছি বলে প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হতো। বলেছিল, বিকাশ ভবনে পোস্টিং। ধৃত ‘পুলিস’কে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গাইঘাটা থানার পুলিস।