Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডাকাতির মামলায় ৩ বছর পরও কার্যকর হয়নি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ৩ এসপির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ আইজিকে

বাগদা থানা এলাকার একটি ডাকাতির মামলায় পলাতক দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও সেই পরোয়ানা কার্যকর হয়নি।

ডাকাতির মামলায় ৩ বছর পরও কার্যকর হয়নি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ৩ এসপির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ আইজিকে
  • ১৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

সুকান্ত বসু, কলকাতা: বাগদা থানা এলাকার একটি ডাকাতির মামলায় পলাতক দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও সেই পরোয়ানা কার্যকর হয়নি। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে আদালতের কাছে তিন পুলিস সুপার ভিন্ন ভিন্ন মত রেখেছেন, যা নিয়ে রীতিমতো তিতিবিরক্ত বিচারক। কার গাফিলতিতে ওই পরোয়ানা এখনও কার্যকর করা গেল না, তা খুঁজে বার করতে এবার ওই তিন পুলিস সুপারের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সম্প্রতি আইজি (দক্ষিণবঙ্গ)-কে এই নির্দেশ দিয়েছেন বনগাঁর দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক প্রদীপকুমার অধিকারী। আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাঁকে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করতে হবে আদালতে। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, কোনও পলাতক অভিযুক্তের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরে গড়িমসির ক্ষেত্রে এমন কড়া নির্দেশের তেমন কোনও নজির নেই এই আদালতে। স্বভাবতই বিষয়টি নিয়ে আদালতের পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার পুলিস মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানা এলাকায় ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে একজন বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে। বাকি দু’জন রয়েছে জামিনে। অন্য দুই অভিযুক্ত পলাতক। তাদের মধ্যে রহিম তরফদার নামে এক অভিযুক্তের বাড়ি নদীয়ার হাঁসখালিতে। অন্যজন বাদল বিশ্বাস। তার বাড়ি নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকায়। বাগদা থানার পুলিস তাদের খুঁজে না পাওয়ায় বনগাঁ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ২০২২ সালে বাদলের বিরুদ্ধে হুলিয়াও জারি হয়। আইনি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য বিচারক সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিসকে নির্দেশ দেন। কিন্তু পরবর্তী সময় এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিচারক বনগাঁ পুলিস জেলার সুপার, রানাঘাট পুলিস জেলার সুপার এবং কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার সুপারকে নির্দিষ্টভাবে আদেশ দেন। কিন্তু এবারও দেখা যায়, দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও পরোয়ানা কার্যকর হয়নি। এর কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও মেলেনি ওই তিন পুলিস অফিসারের তরফে। অভিযোগ ওঠে, তাঁরা আদালতকে দায়সারাভাবে রিপোর্ট দিয়েছেন। আদালতের মন্তব্য, কেন দুই অভিযুক্তকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেই বিষয়ে কোনও সঠিক পদক্ষেপের কথা জানানোই হয়নি। এরপরই বিচারক গত ১৩ মে আইজি (দক্ষিণবঙ্গ)-কে ওই নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর সাড়ে সাত বছর কেটে গেলেও পলাতক দুই অভিযুক্তের সন্ধান না মেলায় ডাকাতির মামলায় চার্জ গঠন করে মূল বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। মামলার শুনানি বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে এই মামলার বিচার কবে শুরু হবে, আর কবেই বা পলাতক অভিযুক্তরা ধরা পড়বে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। সরকারি কৌঁসুলিদের একাংশের বক্তব্য, বিচার বিলম্বিত হলে মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। 

সম্পর্কিত সংবাদ