Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভুয়ো শূন্যপদ তৈরি করে মাদ্রাসায় নিয়োগ, পরিদর্শকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

ভুয়ো শূন্যপদ তৈরি করে মাদ্রাসায় নিয়োগ, পরিদর্শকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
  • ৩১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মাদ্রাসায় ভুয়ো নিয়োগের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরের পরিদর্শকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। অভিযুক্তের নাম বিশ্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বাড়ি বর্ধমান শহরের নীলপুরে। তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সংখ্যালঘু দপ্তরের মাদ্রাসা পরিদর্শক(সাব ইন্সপেক্টর অফ মাদ্রাসা) হিসেবে কর্মরত। চণ্ডীপুর থানার নরঘাট মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রে তিনজন শিক্ষা সম্প্রসারক ও সম্প্রসারিকা ভুয়ো নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন। তাঁরা ওই ভুয়ো নিয়োগপত্র নিয়ে অ্যাপ্রুভালের জন্য জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরে এলে বিষয়টি নিয়ে হইচই হয়। গত ১৪জানুয়ারি জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসার বিপ্লব সরকার ওই ঘটনায় তমলুক থানায় এফআইআর করেন। পুলিসি তদন্তে ওই অফিসের মাদ্রাসা ইন্সপেক্টরের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। আদালতে সেই রিপোর্ট জমা পড়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

Advertisement

তমলুক থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত মাদ্রাসা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য তল্লাশিও চলছে।
নরঘাট থেকে চৌখালি যাওয়ার রাস্তার ধারে নরঘাট মাদ্রাসা শিক্ষক কেন্দ্র অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৭৫জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। শিক্ষা সম্প্রারক ও সম্প্রসারিকা ছ’জন। গত ১৩জানুয়ারি ওই মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রের মুখ্য শিক্ষা সম্প্রারক শেখ আকসার আহমেদ তমলুকে সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসে আসেন। তিনি জেলা আধিকারিক বিপ্লব সরকারের সঙ্গে দেখা করে তাঁর মাদ্রাসায় সদ্য নিযুক্ত তিনজন শিক্ষা সম্প্রসারক ও সম্প্রসারিকার অ্যাপ্রুভালের আবেদন জানান। ২০২৪সালে ২৬সেপ্টেম্বর এক নির্দেশিকার ভিত্তিতে ওই মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রে তিনজনকে নিয়োগ করা হয় বলে আকসার সাহেবের দাবি। ওই জেলা অফিসার অর্ডার কপি দেখেই হতবাক। জেলা থেকে এভাবে মাদ্রাসায় নিয়োগের অর্ডার হয় না। শিক্ষা সম্প্রসারক, সম্প্রসারিকা নিয়োগের অর্ডার রাজ্য থেকেই হয়।যদিও মুখ্য শিক্ষা সম্প্রসারক দাবি করেন, তিনি তমলুকে অবস্থিত জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসে মাদ্রাসা পরিদর্শক বিশ্বরূপ বিশ্বাসের কাছ থেকেই নিয়োগ সংক্রান্ত অর্ডার কপি পেয়েছেন। এসআইয়ের টেবিল থেকেই নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। তারভিত্তিতে তিনজনকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের কারও বেতন চালু হয়নি। প্রত্যেকে যাতে প্রতি মাসে মাইনে পান সেজন্য অনুমোদন নিতে এসেই গোটা বিষয়টি সামনে আসে। যদিও প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত বিশ্বরূপবাবু যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁর টেবিল থেকে এরকম কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাঁর সিল ও সই জালিয়াতি করে ভুয়ো অনুমোদন পেপার বের করা হয়েছে।পুলিসি তদন্তে জানা যায়, মাদ্রাসা পরিদর্শক নিজের সই ও সিল ব্যবহার করে নিয়োগের জন্য অনুমোদন দিয়েছিলেন। এজন্য‌ অনলাইনে লেনদেন হয়েছে বলেও তদন্তে উঠে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে রিপোর্ট জমা দেয় পুলিস। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় তিনি অফিসে আসা ছেড়ে দিয়েছেন। মোবাইলও বন্ধ। জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসার তথা অভিযোগকারী বিপ্লব সরকার বলেন, মাদ্রাসা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি সেভাবে অফিসে আসছেন না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ