সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: বাচ্চা, বোন, দিদি, মহিলাদের ওপর যে আঙুল তুলবে তার আঙুল ভাঙতে হবে। এরজন্য পুলিশকে যা করার দরকার, করতে হবে। এমনকি সরকারি পরিষেবার উপভোক্তার কাছ থেকে এক টাকা ঘুষ নিলেও, রক্ষে নেই। জেলে যেতে হবে তাকে! মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথম কোচবিহার সফরে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। শহরের রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকে পুলিশকে বারবার এভাবেই কড়া হুঁশিয়ারি ও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুরে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর দেড়টা নাগাদ রবীন্দ্র ভবনে এসে পৌঁছন শুভেন্দু। জেলা পুলিশের তরফে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন তিনি। রাজ্য সরকারের সমস্ত দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক শুরু করেন। এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে চলে সেই বৈঠক। বেলা ৩টে নাগাদ প্রশাসনিক বৈঠক শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী রবীন্দ্র ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থানায় একটা বাচ্চা মেয়ের উপর যে ঘটনা ঘটেছিল, তার জন্য ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আমি পরিষ্কার বলে দিয়েছি, বাচ্চা, বোন, দিদি, মহিলাদের ওপর যে আঙুল তুলবে তার আঙুল ভেঙে দিতে হবে। এরজন্য পুলিশকে যা করার দরকার করতে হবে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, সরকারি পরিষেবার উপভোক্তাদের কাছ থেকে কোথাও কোনো টাকা তুললে বা চাইলে, জেলে যেতে হবে সংশ্লিষ্টকে। সিন্ডিকেটরাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলির মধ্যে কোচবিহার অন্যতম। এই জেলার প্রায় ৫০০ কিমি অংশজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। যার মধ্যে প্রায় ৩১০ কিমি অংশে কাঁটাতারের বেড়া আছে। প্রায় ১১০ কিমি সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজ চলছে এখন। তারমধ্যে প্রায় ৪০ কিমি অংশে নদী সীমান্ত। কোচবিহার জেলার ১২টি ব্লকের মধ্যে ৮টি ব্লক এই সীমান্তবর্তী। এছাড়াও বক্সিরহাট থানা এলাকায় রয়েছে অসম সীমানা। ‘বাংলাদেশ লাগোয়া ‘স্পর্শকাতর’ কোচবিহার সীমান্ত নিয়ে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এদিন তাই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিএসএফের কোচবিহার সেক্টর হেড কোয়ার্টারের পদস্থ কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং আন্তঃরাজ্য সীমানা সুরক্ষা নিয়ে বৈঠকে একাধিক বিষয় উঠে আসে। সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশকে সুরক্ষিত করতে হলে আগে আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত করতে হবে। এজন্য ২১০ একর জমি দিচ্ছি আমরা।
একইসঙ্গে অসম সীমানার সুরক্ষা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পুলিশকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি, অসম থেকে অবৈধভাবে কয়লা, সুপারি আসা চলবে না। এই দিকটায় নজর বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় যত অবৈধ নেশা, আফিম, গাঁজা চাষ সব পুড়িয়ে দিতে হবে। যারা এসব করেছে, তাদেরকে এনডিপিএস অ্যাক্টে গ্রেপ্তার করে জেলে পুড়তে হবে। জেলাজুড়ে নেশামুক্ত অভিযান আরও কঠোরভাবে চালাতে হবে।



