নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দেশজুড়ে হামলার ছক ছিল পাকচর হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকারদের। সেই মতো তারা পাকিস্তানের হ্যান্ডেলারদের নির্দেশে এজেন্ট নিয়োগ করছিল। ধনী ব্যক্তিদের অপহরণের পর মোটা টাকার তহবিল তৈরির পরিকল্পনা তারা করে। সেই টাকা দিয়েই দেশজুড়ে নাশকতামূলক কাজ করত। এসটিএফ তাদের জেরা করে এমনই তথ্য পায়। এবার ওই ঘটনার তদন্ত করবে এনআইএ। শুক্রবার মহম্মদ হামিম, অর্পিতা মণ্ডল এবং আদিত্য সিং ভার্চুয়াল মাধ্যমে বর্ধমান আদলতে হাজিরা দেয়। মামলাটি কলকাতার বিশেষ আদালতে চলবে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে পাকিস্তানের ভাট্টি গ্যাং এদেশে এখনো নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা এই কাজ করছে। এরাজ্যে নেটওয়ার্ক বিস্তারে অন্যতম বড়ো দায়িত্ব ছিল হামিমের উপর। সেই মতো সে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। অর্পিতাকে সে হানিট্রাপ হিসাবে কাজে লাগাত। তাদের প্রথম টার্গেট ছিল হাওড়ার এক জনপ্রতিনিধির আত্মীয়। হামিম ওই জনপ্রতিনিধির বাড়ির কাছে গিয়ে একাধিবার রেকি করেছিল। ওই জনপ্রতিনিধি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করে। কিন্তু ‘অপারেশেনের’ আগেই এসটিএফ তাদের পাকড়াও করে। পরে হামিমের আরএক বন্ধু আদিত্য সিংও গ্রেপ্তার হয়। গোয়েন্দারা জানতে পারেন, এরাজ্যেও তাদের বড়ো অপারেশনের টার্গেট ছিল। সেই মতো তারা রেকি শুরু করে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ছবিও তাদের কাছে থেকে পাওয়া যায়। এসটিএফ তদন্তে পাওয়া তথ্য এনআইয়ের হাতে তুলে দেয়। দেশজুড়ে ভাট্টি গ্যাংয়ের শিকড় ছড়িয়ে থাকায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত করতে চাইছে। ধৃতদের জেরা করে চক্রের সম্পর্কে আরও তথ্য তারা সংগ্রহ করতে চাইছে।
এক আধিকারিক বলেন, ভাট্টি গ্যাং টাকার প্রলোভন দিয়ে যুবক-যুবতীদের নেটওয়ার্কে নিয়ে আসছে। তারা প্রত্যেককে আলাদা আলাদা কাজের দায়িত্ব দেয়। কারও কাজ থাকে তথ্য সংগ্রহ করা। আবার কাউকে এজেন্ট নিয়োগের দায়িত্ব দেয়। হামলা করার জন্য আলাদা সদস্য নিয়োগ করে। তারা নির্দেশ মতো হামলা বা অপহরণ করে।
দেশের বিভিন্ন ঘটনায় ভাট্টি গ্যাংয়ের নাম জড়িয়েছে। আগামী দিনে তারা যাতে মাথা তুলতে না পারে তারজন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ধৃতদের টানা জেরা করতে চাইছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না সেটাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।