সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: পরনে নীল রঙের জিন্স ও হালকা বেগুনি ফুল স্লিভ গেঞ্জি। পায়ে চামড়ার দামি জুতো। পিঠে একটি কালো ব্যাগ ও সঙ্গে একটি ছোট বেগুনি সাইড ব্যাগ। অভিযোগ, রবিবার সকালে ফরাক্কার এক ভবঘুরেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল সে। এলাকাবাসী জানতে চাইলে নিজেকে আরপিএফের ‘বড়বাবু’ বলে পরিচয় দেয় ওই যুবক। কিন্তু তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি পেয়ে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে। ফরাক্কা আরপিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তাঁরা জানতে পারেন, ওই নামে কোনও আধিকারিক নেই। খবর পেয়ে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত বিষ্ণু দাসের বাড়ি সামশেরগঞ্জ থানার ধুলিয়ান পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরপাড়ায়। অভিযোগ, সে ওই ভবঘুরের থেকে টাকাও কেড়ে নিয়েছে। পুলিস ঘটনার তদন্তে নেমেছে। ফরাক্কা আরপিএফের ইন্সপেক্টর সঞ্জয় মুদি বলেন, এই নামে আরপিএফ কোনও অফিসার এখানে নেই। কেউ যদি ফরাক্কা আরপিএফের পরিচয় দেয়, তবে সেটা ভুয়ো। আরপিএফ কাউকে হেনস্তা করে না। মানুষকে নিরাপত্তা ও পরিষেবা দিয়ে থাকে।
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, সঞ্জিত নামে এক ভবঘুরে ফরাক্কার পথে পথে ঘুরে বেড়ান। তাঁর বাড়ি মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায়। অভিযোগ, রবিবার সকালে ফরাক্কার নিশিন্দ্রা কলোনিতে বিষ্ণু দাস ওই ভবঘুরের প্রায় সাড়ে চারশো টাকা ও জিনিসপত্র কেড়ে নেয়। এরপর ওই ভবঘুরেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এলাকাবাসীর নজরে এলে তাঁরা বিষয়টি জানতে চান। ওই ভবঘুরে তাঁদের বলে, ওই যুবক তাঁর টাকাপয়সা কেড়ে নিয়েছে। তখন বিষ্ণু নিজেকে ফরাক্কা আরপিএফের ইন্সপেক্টর বলে দাবি করে। বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে একাধিক জায়গার কথা বলে। এলাকাবাসী সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ফরাক্কা আরপিএফকে জানালে তারা জানায়, ওই নামে কোনও আধিকারিক নেই। ভুয়ো আরপিএফ পরিচয় দেওয়ার কথা জানাজানি হতেই প্রায় পাঁচশোর বেশি স্থানীয় বাসিন্দা বিষ্ণুকে ঘিরে ধরে। তাকে আটকে রেখে পুলিসে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ওই ভবঘুরেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ভবঘুরে হিন্দিতে খুব কাকুতিমিনতি করছিল। আমরা আপত্তি জানালে ওই ছেলেটা নিজেকে আরপিএফের বড়বাবু বলে দাবি করে। আমরা আরপিএফে ফোন করে জানতে পারি, বড়বাবু ছুটিতে রয়েছেন। এরপরই ওই ছেলেটিকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ওই ভবঘুরেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ভবঘুরে হিন্দিতে খুব কাকুতিমিনতি করছিল। আমরা আপত্তি জানালে ওই ছেলেটা নিজেকে আরপিএফের বড়বাবু বলে দাবি করে। আমরা আরপিএফে ফোন করে জানতে পারি, বড়বাবু ছুটিতে রয়েছেন। এরপরই ওই ছেলেটিকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়।



