সুকান্ত বসু , কলকাতা:
শ্যামা মায়ের আরাধনায় বেলপাতা ও জবা ফুল আবশ্যিক। না হলে মায়ের আরাধনাই সম্পন্ন হয় না। তাই কালীপুজোয় জবা ও বেলপাতার জোগানে যাতে ঘাটতি না হয়, সেকারণে এখন থেকেই হিমঘরে মজুত করা হচ্ছে জবার কুঁড়ি। ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীদের কথায়, বিভিন্ন হিমঘর মিলিয়ে প্রায় আট কোটি কুঁড়ি বর্তমানে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় রয়েছে। কালীপুজোর দু’দিন আগে হিমঘর থেকে তা আসবে কলকাতার পাইকারি ফুল বাজারে। মঙ্গলবার ফুলবাজার সূত্রে একথা জানা গিয়েছে।
ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়া থেকে আসা জবার কুঁড়ি বিভিন্ন হিমঘরে রাখা হয়েছে। এবার জবার ফলনও খুব ভালো হওয়ায় আশা করা যাচ্ছে, কালীপুজোয় জবা ফুলের ঘাটতি হবে না। কলকাতার জগন্নাথ ঘাটের পাইকারি বাজারে আসা ফুল ব্যবসায়ীদের কথায়, হিমঘরে জবার কুঁড়ি প্যাকেটবন্দি অবস্থায় প্রায় দু’সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। কালীপুজোর মুখে সেগুলি বাজারে আনা হবে।
সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নরায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন, মঙ্গলবার থেকেই পাইকারি বাজারে জবা, বেলপাতার মালার চাহিদা বেড়েছে। আগামী সোমবার কালীপুজোর দিন পর্যন্ত এই চাহিদা তুঙ্গে থাকবে। তাঁর কথায়, শহরে খুচরো ফুল বিক্রেতারা এখন জবা ও বেলপাতা ভালো পরিমাণ বিক্রি করছেন। চাহিদা রয়েছে পদ্ম, দোপাটি, অপরাজিতা, গাঁদারও। ফলে আর পাঁচটা দিনের তুলনায় ওই সমস্ত ফুলের দাম কিছুটা বেড়েছে। ফুল ব্যবসায়ী সজল সামন্ত বলেন, ‘শালপাতায় মোড়া একটি প্যাকেটে এক হাজার জবার কুঁড়ি থাকে। অন্য সময় যা বিক্রি হয় ৫০‑৮০ টাকায়। কিন্তু মঙ্গলবার পাইকারি বাজারে তা বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। শুক্রবার থেকে দাম আরও বাড়বে। খুচরো বাজারেও মঙ্গলবার জবার কুঁড়ির দাম ছিল অন্য দিনের তুলনায় বেশি।
আমতার ফুল চাষি অতুল নস্কর বলেন, ‘পুজোর দু’দিন আগে থেকেই ১০৮টি কুঁড়ি দিয়ে গাঁথা জবার মালা বিভিন্ন খুচরো বাজারে বিক্রি হয় দেড়শো থেকে দু’শো টাকায়। যা অন্যান্য সময় ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করি আমরা। ফুল বিক্রেতা সমর সাহা ও বাপি সাতঁরা বলেন, পাইকারি বাজারের উপর নির্ভর করে আমাদের ফুলের ব্যবসা। পাইকারি বাজারে যদি দাম চড়া থাকে, সেক্ষেত্রে আমাদেরও বেশি দামে ফুল বিক্রি করতে হয়। ফলে কালীপুজোর ক’দিন আগে থেকেই জবা ও বেলপাতার মালার দাম কিছুটা চড়া। আশা করছি, ২২ অক্টোবরের পর জবার দাম স্বাভাবিক হবে।



