Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোট ঘোষণার আগেই বাংলায় আসছে বাহিনী

এসআইআর নিয়ে চাপের মুখে একের পর এক তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই আবহেই এবার ভোট ঘোষণার আগে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিলেন জ্ঞানেশ কুমাররা।

ভোট ঘোষণার আগেই বাংলায় আসছে বাহিনী
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এসআইআর নিয়ে চাপের মুখে একের পর এক তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই আবহেই এবার ভোট ঘোষণার আগে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিলেন জ্ঞানেশ কুমাররা। সূত্র মারফত তেমনটাই খবর। তবে ঠিক কত কোম্পানি আধাসেনা আগেই রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। 

Advertisement

দিন কয়েক আগেই রাজ্যে স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকা চিহ্নিত করতে প্রতিটি জেলাকে নির্দেশ পাঠিয়েছিল কমিশন। জানা গিয়েছে, ভোটে হিংসার ইতিহাস ও দৈনন্দিন আইন-শৃঙ্খলা রিপোর্টের ভিত্তিতে স্পর্শকাতর বুথ ও ভোটকেন্দ্র ছাড়া অতি স্পর্শকাতর এলাকাও চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে জেলাগুলিকে। সেই কাজ অনেকটা এগিয়েছে। এক এক জন সেক্টর অফিসারকে এক থেকে দু’ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২টি বুথের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই তালিকা তৈরি করতে হচ্ছে। গোটা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জেলাগুলির রিপোর্ট জমা পড়বে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তরে। তারপর তা একত্র করে পাঠানো হবে দিল্লির নির্বাচন সদনে। ভোট ঘোষণার আগে কোথায় কীভাবে বাহিনী নিয়োগ, তারপরই তা ঠিক হবে। জানা যাচ্ছে, প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ ভোট ঘোষণার আগে মূলত অতি স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতেই বাহিনী আসছে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটের আগে বাহিনী নিয়োগ কোনো নতুন ব্যাপার নয়। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছিল। ভোটের আগে এরিয়া ডমিনেশন থেকে শুরু করে ঝামেলাপ্রবণ এলাকাগুলিতে মানুষের মনোবল বৃদ্ধি করতেই আধাসেনা নিয়ে আসা হয়। তবে এক্ষেত্রেও রাজ্য পুলিশের বড় ভূমিকা রয়েছে। 
এছাড়াও জানা যাচ্ছে, ঠিক কত সংখ্যক বাহিনী ভোটের আগে রাজ্যে নিয়োগ করা হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে রাজ্যে সদ্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষকের মতামতের উপর। স্পর্শকাতর, অতিস্পর্শকাতর বুথ ও এলাকা চিহ্নিত হয়ে গেলেই এব্যাপারে নিজের মতামত দিল্লিকে জানাবেন তিনি। ওই মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। যদিও ইতিমধ্যে ভোটে অতীত হিংসার ইতিহাস পর্যালোচনা করে মোট সাতটি জেলাকে বেশি উত্তেজনাপ্রবণ হিসাবে চিহ্নিত করে রেখেছে কমিশন। তার মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গের দুই জেলা কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের রয়েছে দুই ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম। গত নির্বাচনগুলিতে এই সাত জেলাতেই বেশিরভাগ হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলে কমিশনের খাতায় উল্লেখ রয়েছে। ফলে ভোটের আগে বাহিনী নিয়োগ হলে এই জেলাগুলিতেই বেশি সংখ্যায় আধাসেনা থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। 
এরইমধ্যে চলছে এসআইআরের শুনানিতে জমা পড়া নথি যাচাই, অর্থাৎ স্ক্রুটিনির কাজ। মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভাররা বিধানসভা ভিত্তিক নথি পরীক্ষা করছেন। সূত্রের খবর, বাছাই করে বেশ কয়েকজন ভোটারের নথি পুনরায় পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাইক্রো অবজার্ভারদের। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এক বৈঠকে মাইক্রো অবজার্ভারদের বলা হয়েছে, পঞ্চায়েত প্রধানের ইস্যু করা জন্মের সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, এতদিন গ্রামীণ এলাকায় প্রধানরাই জন্মের শংসাপত্র দিয়ে এসেছেন। স্বাভাবিকভাবে তাই ভোটারদের ভোগান্তি আরও বাড়তে চলেছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ