নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বিহার-ঝাড়খণ্ডে বসেই বাংলায় অস্ত্র ঢোকাচ্ছে আর্মস ডিলাররা। পুলিসের চোখে ধুলো দিতে ঘনঘন রুট বদল করছে অস্ত্র পাচারকারীরা। কখনও জলপথে, আবার সড়ক এবং রেলপথ দিয়েও অস্ত্র ঢুকছে এরাজ্যে। অস্ত্র কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিস। আর্মস ডিলাররা তাদের নেটওয়ার্কের জন্য পুরনো ক্যারিয়ারদের পাশাপাশি নতুন ছেলে রিক্রুট করছে। এই ক্ষেত্রে তাদের টার্গেটই হল ফেরিওয়ালা,পরিযায়ী শ্রমিকরা। সোমবার কলকাতা পুলিসের এসটিএফের হাতে হাসান শেখ নামে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। অভিযোগ, ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে অস্ত্রের কারবার চালাত হাসান। পুলিস সূত্রে খবর, ভিনরাজ্যে কাজ করতে গেলে অস্ত্র কারবারিরা এদের স্বল্প সময়ে অধিক টাকা আয়ের টোপ দিচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত মালদহে ৫২ জন আগ্নেয়াস্ত্র পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই আড়াই মাসে জেলায় উদ্ধার হয়েছে ৫৫ টি তাজা কার্তুজ সহ ৩৫ টি আগ্নেয়াস্ত্র। মালদহের বিভিন্ন থানায় পুলিস অস্ত্র আইনে মোট ২৪ টি মামলা রুজু করেছে। ফলে জেলায় বিপুল অস্ত্র ঢোকায় চিন্তা বাড়ছে পুলিসেরও।
আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করতে গিয়ে এখনও পর্যন্ত যারা ধরা পড়েছে, প্রত্যেকেই ক্যারিয়ার। তদন্তকারীদের অনুমান, ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউটররা এখনও পর্যন্ত অধরা। কারণ তাদের অধিকাংশই বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। সেখানে বসেই তারা ফেরিওয়ালা বা কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের ব্যবহার করছে নেটওয়ার্ক বিস্তার করার জন্য। পরে তাদের মাধ্যমেই পাচার হচ্ছে অস্ত্র। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে,কালিয়াচক,বৈষ্ণবনগর, হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া, চাঁচল সহ বিভিন্ন থানা এলাকা দিয়ে পাচারের সময় পুলিসের জালে ধরা পড়ছে ওয়ান শটার, সেভেন এমএম, নাইন এম এমের মতো সেমি অটোমেটিক পিস্তল ও কার্তুজ।
মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন,অস্ত্র কারবারের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলছে। এদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে।
সীমান্তবর্তী মালদহে বেআইনি অস্ত্রের কারবার দীর্ঘদিনের। যার নেপথ্যে বিহার এবং ঝাড়খণ্ড। আগে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের কারিগররা মালদহে ঘাঁটি গেড়ে অস্ত্র তৈরি করত। ইদানিং বারবার পুলিসের অভিযানের ফলে জেলায় লুকিয়ে অস্ত্র তৈরি করা তারা আর নিরাপদ বলে মনে করছে না। ছক বদলে এখন নিজের এলাকায় বসে বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অস্ত্র পাচার চলছে।
ইতিমধ্যে মানিকচক, কালিয়াচক সহ মালদহের ফেরিঘাটগুলিতে নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করছে পুলিস। একই সঙ্গে স্পিড বোট নিয়ে জলপথে টহল দিচ্ছেন পুলিস কর্মীরা। পাশাপাশি বৈষ্ণবনগর-ফারাক্কা জাতীয় সড়ক সহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নভেম্বরে এই রুট দিয়ে পাচারের সময় তিনটি নতুন সেভেন এমএম পিস্তল সহ বিহারের মুঙ্গেরের এক বাসিন্দা পুলিসের জালে ধরা পড়ে। রেলপথে অস্ত্র পাচার রুখতে জিআরপি ও আরপিএফের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়েছে বলে এক পুলিস কর্তা জানান।