নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিহারের ভাগলপুরে সুতোকলের আড়ালে বাড়িতেই চলছিল বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানা। কলকাতা পুলিশের এসটিএফের অভিযানে ফাঁস হয়ে গেল সেই বেআইনি কারবার। বিহার এসটিএফের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সেমি ফিনিশড আগ্নেয়াস্ত্র এবং সেগুলি তৈরির সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছেন কলকাতা পুলিশের অফিসাররা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচজনকে। এই আগ্নেয়াস্ত্র বিহার থেকে কলকাতায় আসত বলে খবর।বিহার থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এনে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের হাতে কয়েকজন ধরা পড়ে। তাদের জেরা করে জানা যায়, ভাগলপুরের মধুসূদনপুর থানা এলাকায় একটি বাড়ির দোতলায় বিভিন্ন ধরনের আর্মস তৈরি হচ্ছে। সেখানে তিন শিফটে কাজ চলে! এই বাড়ির নীচে একটি সুতোকল রয়েছে। তার ভিত্তিতে ওই বাড়িতে মঙ্গলবার বিহার এবং কলকাতা পুলিশের এসটিএফের যৌথ অভিযান চলে। দেখা যায় বাড়ির নীচে সুতোকলে কিছু শ্রমিক কাজ করছে।
মেশিন চলার বিকট শব্দও হচ্ছে সেখানে। পুলিশ অফিসাররা সোজা ওই বাড়ির দোতলায় পৌঁছে যান। তাঁরা দেখেন পুরোদমে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি চলছে। কাজ করছে মালিকসহ পাঁচজন। সকলেই আটক করা হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় ২০টি সেমি ফিনিশড ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, ৮টি পিস্তল ব্যারেল, লেদ মেশিন, গ্রাইন্ডিং মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি। জেরার পর গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচজনকে।তদন্তে প্রকাশ, বাড়িটি বছর দুই আগে নির্মিত। আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির দক্ষ কারিগরদের সেখানে আমদানি করা হয়েছে মুঙ্গের থেকে। অন্যদের সন্দেহ দূর করতে ওই বাড়ির নীচে খোলা হয় একটি সুতোকল। আর উপরের তলে চলছিল আসল কারবার—বেআইনি অস্ত্র কারখানা। আগ্নেয়াস্ত্র কারখানার মালিকের সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন দুষ্কৃতীর যোগ রয়েছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, মালের অর্ডার আসত হোয়াটসঅ্যাপে। সেইমতো রেডি আর্মস পৌঁছে যেত বাংলার বিভিন্ন দুষ্কৃতীর ডেরায়। একেকটি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকায়। ধৃতদের জেরা করেই জানা গিয়েছে এসব ‘মেশিন’ ক্রেতাদের নাম। এই মারাত্মক বেআইনি কারবারের সঙ্গে জড়িত সকলেরই খোঁজ শুরু হয়েছে।