নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শিল্পাঞ্চলে বিপুল অস্ত্র ভাণ্ডারের হদিশ পেল রাজ্য এসটিএফ (স্পেশাল টাস্ক ফোর্স)। জানা গিয়েছে, অণ্ডাল থানার বহুলা এলাকায় ইসিএলের একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টার থেকে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। পাওয়া গিয়েছে ৫৬ রাউন্ড গুলিও। বিপুল অস্ত্রের সন্ধান মিলেছে পাণ্ডবেশ্বরের কয়লা মাফিয়া শামসের হোসেনকে জেরা করেই। তার বাড়ির অদূরেই এই অস্ত্রগুলি পাওয়া গিয়েছে বলে এসটিএফের দাবি।
অস্ত্রগুলি যথেষ্ট আধুনিক। সাতটি সেভেন এমএম পিস্তল, ৪ টি নাইন এমএম পিস্তল, ৩টি ওয়ান শর্টার ও একটি রিভলভার উদ্ধার হয়েছে। এই বিপুল অস্ত্র কীভাবে শিল্পাঞ্চলে ঢুকল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে কেন অস্ত্র রাখা ছিল, তাও খতিয়ে দেখছে এসটিএফ। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কী উদ্দেশে এই অস্ত্র আনা হয়েছিল? এনিয়েই তৃণমূল বিজেপির মধ্যে তরজা শুরু হয়েছে।
পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, ‘অভিযুক্তর দাদা, ভাই তৃণমূল নেতা। রাজনৈতিক অশান্তি পাকাতে হয়তো এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল। আমরা তো দেখেছিলাম ভোট গণনার দিন তাঁরা গাড়িতে করে তলোয়ার এনেছিল। আমরা চাই এসটিএফ এমনভাবে তদন্ত করুক, যাতে মাথাকেও ধরা যায়।’ অন্যদিকে, পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, তার দুই ভাই তৃণমূল করলেও শামসের নিজে আমাদের বিপরীত রাজনৈতিক দলের অনুগত ছিল। আমরাও চাই এর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। আমরা হিংসার রাজনীতি করিনা।’
গত মাসেই এসটিএফ জামুড়িয়া থানার বেলবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে খইরুল আলম ওরফে গদাইকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে দু’টি ওয়ান শর্টার উদ্ধার হয়। তাকে জেরা করে উঠে আসে পাণ্ডবেশ্বরের বড় কয়লা মাফিয়া শামসের হোসেনের নাম। অভিযোগ অস্ত্র কারবারেরও চক্রী সে। এরপরই এসটিএফ ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আনে। হেফাজতে নিয়ে জেরা করতেই বিপুল অবৈধ অস্ত্রের নাগাল পায় রাজ্য পুলিশের এই বিশেষ বাহিনী। জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে অভিযুক্তকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করেছে এসটিএফ।
কে এই শামসের? জানা গিয়েছে, বিহারের মুঙ্গের এলাকা থেকে পাণ্ডবেশ্বরের বহুলা মতিবাজারে এসে বসতি গড়েন তাদের পরিবার। তারা ছ’ভাই। মেজ ভাই মিরাজ হোসেন ওরফে চাঁদ পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের তৃণমূলের মাইনোরিটি সেলের চেয়ারম্যান ছিলেন। যথেষ্ট প্রভাবশালী এই তৃণমূল নেতা ভাইয়ের গ্রেপ্তারির পর আসানসোল আদালতে হাজিরও হয়েছিলেন। শামসেরের ছোট ভাই সদরুদ্দিন তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য। তার পরিবারের এই রাজনৈতিক পরিচয়কেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি। যদিও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শামসের এলাকার বড় কয়লা কারবারি। পাণ্ডবেশ্বরে যে যখন ক্ষমতায় থেকেছে তাঁর হয়ে অর্থ জোগানের কাজ করেছে শামসের। উপর মহলকে খুশি রেখে সব আমলেই কয়লা কারবার চালিয়ে গিয়েছে। কয়লার পাশাপাশি সে যে বড় অস্ত্র কারবারিও। তা শুনে পাণ্ডবেশ্বরের অনেকেই স্তম্ভিত।