Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিতুড়িয়ায় আবাস উপভোক্তাদের ১২০০ টাকায় এক ট্রাক্টর বালি দেওয়া শুরু হল

মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পুরুলিয়া জেলাতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রাপকদের ১২০০ টাকায় এক ট্রাক্টর তথা ১০০ সিএফটি বালি দেওয়া শুরু হল।

নিতুড়িয়ায় আবাস উপভোক্তাদের ১২০০ টাকায় এক ট্রাক্টর বালি দেওয়া শুরু হল
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পুরুলিয়া জেলাতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রাপকদের ১২০০ টাকায় এক ট্রাক্টর তথা ১০০ সিএফটি বালি দেওয়া শুরু হল। রবিবার নিতুড়িয়া ব্লকের ইনানপুর এলাকার পথের সাথী থেকে বালি দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এদিন সেখান থেকে এলাকার ১০ জনের বেশি আবাস উপভোক্তাকে বালি দেওয়া হয়। আবেদনের ভিত্তিতে আগামী দিনে সকল উপভোক্তাকে বালি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ নির্মাণ কাজ সহ অন্যান্য কাজে কত টাকায় বালি পাবেন সে নিয়ে কোনো খোলসা করা হয়নি। এদিন বালি প্রদান অনুষ্ঠানে মহকুমা শাসক আকাশ দীপ, নিতুড়িয়া ব্লকের বিডিও প্রবীর কুমার সিনহা সহ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক ও বিধায়ক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। কম টাকায় বালি পাওয়ায় উপভোক্তারা খুশি। 

Advertisement

নিতুড়িয়া ব্লকের বিডিও বলেন, এই ব্লক এলাকায় ২২৬৭ জন আবাস উপভোক্তা রয়েছেন। তার মধ্যে এখনো পর্যন্ত দেড়শো জন বালির জন্য আবেদন করেছেন। তাঁদের প্রত্যেককে বালি দেওয়া হবে। আবেদনের ভিত্তিতে সকল আবাস যোজনা প্রাপককেই কম দামে বালি দেওয়া হবে। সে জন্য উপভোক্তাদের সরাসরি ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবাস উপভোক্তাদের অনুমতি পত্র দেওয়া হবে। তা দেখালেই বালি মিলবে। আপাতত একজন আবাস উপভোক্তাকে তিন ট্রাক্টর বালি দেওয়া হবে।
 স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই পুরুলিয়া জেলা জুড়ে বালির আকাল দেখা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবার সেই বালির আকাল কাটতে চলেছে। অভিযোগ, তৃণমূল আমলে বেআইনি বালি পাচার এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তার জেরে সরকারের তরফ থেকে অনুমোদিত ঘাট থেকেও বালি তোলায় রাশ টেনে ধরা হয়েছিল। ফলে বিগত কয়েকমাস ধরে জেলাজুড়ে বালির টান দেখা দেয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা বাইরে থেকে বালি এনে চড়া দামে বিক্রি করছিল‌। বালির অভাবে ছোটো বড়ো সমস্ত ধরনের সরকারি ও বেসরকারি নির্মাণকাজ থমকে গিয়েছিল।  জেলা প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি বৈঠকে জানিয়েছেন, বালির অভাব দূর করতে দ্রুত প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে। কয়েকদিন আগে ভূমি ও সংস্কার দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা জেলায় এসে বালির অভাব নিয়ে বৈঠক করেন। আর তাতেই জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। তাই আপাতত আবাস যোজনা প্রাপকদের প্রথম পর্যায়ের বালি দেওয়া হচ্ছে। রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় কোনো বালিঘাট না থাকায় আপাতত অন্য জেলা থেকে বানিয়ে এনে উপভোক্তাদের দেওয়া হচ্ছে। তবে এলাকায় খুব শীঘ্রই বালিঘাট চালু হবে বলে জানানো হয়েছে। নিতুড়িয়া ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবাস উপভোক্তাদের ১২০০ টাকায় এক ট্রাক্টর বালি দেওয়া হচ্ছে। তবে লোডিংয়ের জন্য ৩০০ টাকা এবং গাড়ি ভাড়া উপভোক্তাদের দিতে হচ্ছে। বালি নিতে উপভোক্তাদের  আধার কার্ড, মোবাইল নম্বর লাগছে।
আবাস যোজনার উপভোক্তা বাবলু বাউরি বলেন, বালির জন্য বাড়ি তৈরির কাজ করতে পারছিলাম না। এক ট্রাক্টর বালি কিনতে আট থেকে ন’হাজার টাকা দিতে হচ্ছিল। এবার দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় এক ট্রাক্টর বালি পাচ্ছি। এরজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।  প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রাপকদের বালি দেওয়ার কাজ শুরু হলো। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ