সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: একটা সময় ছিল যখন বাংলার ঘরে ঘরে ঠাকুমা, মা-কাকিমারা সুতোর কাজ করতেন। তা স্কুলের জামা-প্যান্ট হোক কিংবা বাড়ির পোশাক। এমনকী স্কুলের হাতের কাজের পরীক্ষাতেও থাকত বিভিন্ন ধরনের সুতো দিয়ে বোনা নানান জিনিস। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সেই সমস্ত পরম্পরা এখন ধীরে ধীরে ইতিহাসে পরিণত হচ্ছে। বাংলার প্রত্যেকটা বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া সুতোর সেই নিপুন কাজকে এ বছর থিম ভাবনায় রেখেছে কোচবিহার শহরের নিউটাউন ইউনিট।
এবার কোচবিহার নিউটাউন ইউনিটের দুর্গাপুজোর ৫৮ বছর। আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টির জন্য প্যান্ডেল তৈরি কাজ খানিকটা বাধাপ্রাপ্ত হয়। তবে দু’দিন ধরে শরতের ঝলঝলে আকাশ প্রাণভরে রোদ ঢেলে দিয়েছে। পাছে আবার বৃষ্টি শুরু হয়, তাই জোর কদমে প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুপ্রিয় দাস এবং অভিজিৎ ঘোষ বলেন, এ বছর আমাদের থিম ‘বুনন’। অর্থাৎ সুতোর টান। তা সে তাঁত শিল্পই হোক বা এমব্রয়ডারি। সুতো ও বাংলার ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই এই ভাবনা।
সুতোর কাজ ছাড়াও নিউটাউন ইউনিটের পুজো প্যান্ডেলে এ বছর থাকছে আরও অনেক নস্টালজিয়া। আমাদের জীবন থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া একটি অ্যাম্বাসেডর রাখা থাকবে মণ্ডপে। থাকবে রিকশ। দুর্গা প্রতিমাতেও ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত রাখছে নিউটাউন ইউনিট। বিগত বছরগুলির ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে এ বছরও শ্বেতশুভ্র মাতৃ প্রতিমা গড়া হচ্ছে। সঙ্গে থাকছে টাকামাথা অসুর। উদ্যোক্তারা জানান, এ বছর তাঁদের পুজোর বাজেট প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। পুজোর ক’দিন থাকবে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান। ক্লাব সম্পাদক অভিষেক সিংহ রায় বলেন, বিগত বছরের মতো এবারও আমাদের পুজো দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে। • নিজস্ব চিত্র।