নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও আরামবাগ এবং সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: রবিবার বাঁকুড়া ও আরামবাগে কড়া পুলিসি নিরাপত্তায় পালিত হল রামনবমী। এদিন বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের তরফে শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিজেপি নেতারা শোভাযাত্রায় হাঁটেন। তৃণমূল নেতারাও বিভিন্ন জায়গায় রাম পুজোয় অংশ নেন। বিভিন্ন জায়গায় শোভাযাত্রায় অস্ত্র হাতে মিছিল করতে দেখা যায়। বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, এদিন কড়া নিরাপত্তায় জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে রামনবমী পালিত হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন জায়গায় শোভাযাত্রা চলেছে।
এদিন সকালে বাঁকুড়া শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শহরের পাঁচবাগা ময়দানে সকাল থেকেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠনের সদস্যরা জমায়েত করেন। পরে পাঁচবাগা থেকে মাচানতলা হয়ে হিন্দু স্কুল পর্যন্ত শোভাযাত্রা হয়। শোভাযাত্রায় প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার সহ অন্যান্যরা অংশ নেন। ওন্দা ব্লকের রামসাগরে আয়োজিত শোভাযাত্রায় স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা ও গেরুয়া শিবিরের অন্যান্য নেতাদের অস্ত্র হাতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, এদিন সন্ধ্যায় বাঁকুড়া শহরের মিশ্র পাড়ায় রাম পুজোয় অংশ নেন সাংসদ তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ চক্রবর্তী। সকালে বড়জোড়ার ফুলবেড়িয়ায় বাসন্তী পুজোয় মাতেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় সহ শাসক দলের নেতা-কর্মীরা।
বিষ্ণুপুরে রামনবমীর শোভাযাত্রায় লাঠি খেলায় মাতেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এদিন বিষ্ণুপুর শহরের স্টেশন এলাকা থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। তা রসিকগঞ্জ, চকবাজার হয়ে কাটানধারে গিয়ে শেষ হয়। কয়েক হাজার মানুষ তাতে অংশ নেয়। একাধিক সুসজ্জিত রথ নগর পরিক্রমা করে। শোভাযাত্রা চলাকালীন হঠাৎ এক ভক্তের কাছ থেকে লাঠি নিয়ে খেলতে শুরু করেন সৌমিত্র। তাঁর লাঠি ঘোরানোয় দক্ষতা দেখে অনেকেই অবাক হন। শোভাযাত্রাকে ঘিরে এদিন পুলিস যথেষ্ট তৎপর ছিল। মোড়ে মোড়ে পুলিস মোতায়েন করা ছিল। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হয়।
সৌমিত্র বলেন, একজন সনাতনী হিন্দু ঘরের ছেলে হিসেবে প্রতিবছর রাস্তায় হাঁটি। এদিনও রামনবমীর শোভাযাত্রায় হেঁটেছি। লাঠি খেলা প্রসঙ্গে বলেন, আমি গ্রামের ছেলে। লাঠি খেলার অভ্যাস ছোট থেকেই ছিল। এদিন তা একবার ঝালিয়ে নিলাম।
এদিন আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় রামপুজো করেন বাসিন্দারা। তৃণমূল ও বিজেপি নেতারা রাম নবমীর মিছিলে শামিল হন। আরামবাগ হাইস্কুল মাঠ থেকে একটি শোভাযাত্রা হয়। তাতে অংশ নেন বিজেপির আরামবাগ সংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা, আরামবাগের বিধায়ক মধুসূদন বাগ, গোঘাটের বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক। ওই শোভাযাত্রায় বেশ কয়েকজন রাম ভক্তকে অস্ত্র হাতে নাচতে দেখা যায়। তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। যদিও শোভাযাত্রার আয়োজক কমিটির সম্পাদক তথা বিধায়ক মধুসূদনবাবু বলেন, এদিন সুসজ্জিতভাবে রাম নবমীর শোভাযাত্রা হয়েছে। বহু মানুষ তাতে শামিল হন। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রায় ঢুকেছিল। তাদের আমরা চিনি না। পুলিসের নজরে এনে শোভাযাত্রা থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিন আরামবাগের পল্লিশ্রীতে রাম নবমী উপলক্ষ্যে সহস্র কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন হয়। বঙ্গীয় সনাতন ব্রাহ্মণ সংগঠনের সদস্যরা গীতা পাঠ করেন। তাতে শামিল হন আরামবাগের সাংসদ তৃণমূলের মিতালি বাগ, দলের জেলার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী সহ অনেকেই। মহকুমার গোঘাট, খানাকুল, পুরশুড়াতেও রাম নবমীর শোভাযাত্রা হয়েছে।