Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আরামবাগে অন্তঃসত্ত্বা বধূর দেহ উদ্ধার, রহস্য

আরামবাগে অন্তঃসত্ত্বা বধূর দেহ উদ্ধার, রহস্য
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বুধবার সকালে আরামবাগ থানার মাদারচক গ্রামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম সাবেরা খাতুন (২১)। তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে বাপেরবাড়ির সদস্যরা আরামবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিস ঘটনার তদন্তে নেমে এদিনই বধূর শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম মানোয়ারা বেগম। যদিও প্রধান অভিযুক্ত বধূর স্বামী পলাতক। 
Advertisement
পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। স্বামী, শাশুড়ি, তিন মামা ও এক মামার ছেলে সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বধূর শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আজ, বৃহস্পতিবার তাকে আদালতেও তোলা হবে। পাশাপাশি বধূর দেহের ময়নাতদন্তও হবে। তার রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। 
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাবেরার বাপেরবাড়ি আরামবাগ পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদুর জামাদা পাড়া এলাকায়। বছর দেড়েক আগে মাদারচকের মাসুমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। মাদারচকে মাসুমের মামারবাড়িও। বধূর স্বামী বাইরে জরির কাজ করত। বধূর মা সায়েরা বিবির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে মেয়েকে অত্যাচার করত তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সেইজন্য আরামবাগে ঘরভাড়া করে থাকার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছিল। মাস পাঁচেক সেখানেই ছিল। তারপর মেয়ে ফের শ্বশুরবাড়ি যায়। 
সায়েরা বিবি বলেন, নেশা করে জামাই মেয়েকে মারধর করত। খেতে দিত না। আমার মেয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল। তাই মেয়েকে কিছুদিন আমার কাছেই রেখেছিলাম। জামাই নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকেছিল বলে মঙ্গলবার সকালে মেয়ে আবার শ্বশুরবাড়িতে যায়। মেয়ে ফের অত্যাচারের কথা আমাদের জানায়। তারপর এদিন সকালে এমন খুনের ঘটনা ঘটল। আমরা চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। বধূর দিদি বলেন, এদিন সকালে বোনের এমন খবর শুনে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি, একটি ঘরের দরজায় শিকল তোলা রয়েছে। আরএকটি ঘর খোলা ছিল। পুলিস এসে শিকল খুলে দেহ উদ্ধার করে। বোনকে কিছুটা কুঁজো হয়ে শুয়ে থাকতে দেখি। মৃতার কাকু শেখ বাপন বলেন, ভাইঝির নাক দিয়ে রক্তও বের হয়েছিল। এরকম ঘটনা ঘটবে আমরা ভাবতে পারিনি। পুলিস প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।
মৃতার পরিবারের দাবি, এদিন সকালে ওই ঘটনার পর বধূর স্বামী ও শাশুড়িকে বাড়িতে দেখা যায়নি। তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ভিড় জমান। যদিও অভিযোগের ভিত্তিতে বিকেলের মধ্যেই শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। 
আজ, বৃহস্পতিবার আরামবাগ মেডিক্যালের মর্গে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হবে। পুলিস জানিয়েছে, স্বামী সহ বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ