নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়তে এবার জোর তৎপরতা শুরু করে দিল আরামবাগ পুরসভা। মঙ্গলবার চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের প্রস্তাবিত এলাকা চাঁদুরে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে, চাষিরা এখনও ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য জমি দিতে নারাজ। তাঁরা এদিন পুরসভাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিকল্প জমির খোঁজ করতে। চেয়ারম্যান বলেন, চাঁদুরের কিছু চাষি জমি দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন বলে এদিন গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও চাষির সঙ্গে ফলপ্রসু আলোচনা হয়নি। তবে এলাকার চাষিদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে চাষিদের সঙ্গে কথা বলা হবে। বৈঠকটি হবে আগামী সোমবার। সেখানে চাষিরা জোট বেঁধে যেতে পারেন বলে খবর। তার আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনাও সেরে নিতে চান।
Advertisement
আরামবাগ পুরসভার চাঁদুরে দ্বারকেশ্বর নদের চরে কিছু সরকারি খাস জমি রয়েছে। সেখানেই ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে পুরসভা। এরজন্য প্রায় ছয় বিঘে জমি প্রয়োজন। কিছুদিন আগে পুরসভার তরফে জমির সীমানা চিহ্নিত করে খুঁটি পোঁতা হয়। বর্তমানে সেইসব জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সেখানে চাষ করে আসছেন। তাই ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ার প্রতিবাদ জানিয়ে চাষিদের একাংশ খুঁটিগুলি উপড়ে ফেলে দেন। এরপর এদিন পুরসভার চেয়ারম্যান সরেজমিনে ওই এলাকায় যান। তিনি চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেই আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। চাষিরা জানিয়েছেন, পুরসভার ৭, ৮ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাসিন্দাদের একাংশ ওই খাস জমিতে চাষ করেন। বছরে একাধিক ফসলও ফলে। সম্প্রতি ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ার জন্য কিছু চাষিরা পুরসভাকে জমি দিতে ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন বলে চেয়ারম্যান এদিন দাবি করেন। কিন্তু সেই রকম কোনও চাষির খোঁজ পাওয়া যায়নি। চাষিদের মধ্যে শেখ স্বপন, শেখ হায়দার আলিরা বলেন, চেয়ারম্যান বলেছেন ইচ্ছুক দাতাদেরই জমি নেওয়া হবে। জোর করে কারও জমি নেওয়া হবে না। সেইমতো চেয়ারম্যানের আহ্বান মেনে আগামী সোমবার আলোচনা হবে। সেই বৈঠকেই পুরসভাকে আমাদের কথা জানাব।
আরামবাগ শহরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে জটিলতা প্রায় এক দশক ধরে চলছে। একাধিক স্পট চিহ্নিত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চেষ্টা হলেও তা ভেস্তে যায়। বর্তমানে পল্লীশ্রী এলাকায় রামকৃষ্ণ সেতুর নিচে জঞ্জালের স্তুপ জমে রয়েছে। তার পাশ দিয়ে গিয়েছে রাজ্য সড়ক। দুর্গন্ধে নাক চাপা দিতে হয় প্রত্যেককেই। তাই স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপন প্রকল্প গড়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন শহরবাসী। পুরসভার দাবি, জমি জটের জেরেই বারবার থমকে যাচ্ছে প্রকল্প।
আরামবাগ শহরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে জটিলতা প্রায় এক দশক ধরে চলছে। একাধিক স্পট চিহ্নিত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চেষ্টা হলেও তা ভেস্তে যায়। বর্তমানে পল্লীশ্রী এলাকায় রামকৃষ্ণ সেতুর নিচে জঞ্জালের স্তুপ জমে রয়েছে। তার পাশ দিয়ে গিয়েছে রাজ্য সড়ক। দুর্গন্ধে নাক চাপা দিতে হয় প্রত্যেককেই। তাই স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপন প্রকল্প গড়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন শহরবাসী। পুরসভার দাবি, জমি জটের জেরেই বারবার থমকে যাচ্ছে প্রকল্প।



