Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আরামবাগে বাঁধের পাঁচটি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্থায়ী মেরামতির উদ্যোগ

আরামবাগে বাঁধের পাঁচটি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্থায়ী মেরামতির উদ্যোগ
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গত বছরই আরামবাগ মহকুমার পাঁচটি জায়গায় নদী বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল এলাকা। ভাঙা বাঁধ দিয়ে যাতে ফের এলাকায় জল না ধুকে পড়ে সেইজন্য প্রাথমিক মেরামতির কাজ করেছিল সেচদপ্তর। এবার সেই পাঁচটি জায়গায় স্থায়ীভাবে পাকাপোক্ত বাঁধ তৈরি হবে বলে সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি জায়গা রয়েছে দ্বারকেশ্বর, মুন্ডেশ্বরী ও রূপনারায়ণের উপর। সেখানে নতুন বাঁধ তৈরিতে ছ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য। দ্রুত কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেচদপ্তরের হুগলি জেলার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবেন্দ্র সিংহ বলেন, পাঁচটির মধ্যে চারটি জায়গায় প্রাথমিক মেরামতির কাজ করা হয়েছিল। এবার পাঁচটি স্পটেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই ই-টেন্ডার করে কাজ শুরু হবে। এই ব্যাপারে রাজ্য ছ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করে প্রকল্পগুলির অনুমোদন দিয়েছে। তার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে এখন। 
Advertisement
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আরামবাগ মহকুমায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অতি বৃষ্টি ও ডিভিসির ছাড়া জলের মহকুমার একাধিক জায়গায় নদী বাঁধ ভেঙে যায়। তার জেরে কৃষিজমির পাশাপাশি পাকা ঘরবাড়িও ভেসে যায়। দুর্গতরা শেষ সম্বলটুকুও বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে পারেননি। চোখের সামনে পাকা ঘর ভেসে যেতে দেখেছেন খানাকুলের একাধিক পরিবার। সেগুলির মধ্যে রয়েছে খানাকুলের তালিত, বন্দিপুর, খুঁটে পাড়া ও বেরা পাড়া। এছাড়া পুরশুড়ার কাঁদিপুরেও ভেঙে যায় বাঁধ। নদীর জল কিছুটা কমলে ভাঙনের স্থানগুলিতে প্রাথমিক মেরামতির কাজ করে সেচদপ্তর। ইউক্যালিপটাস বল্লা, বস্তা দিয়ে জল আটকানো হয়। কিন্তু চলতি বছরে গ্রীষ্মের পর ফের বর্ষা আসবে। সেই সময়ের মধ্যে বাঁধগুলি তৈরি না হলে প্লাবনের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সেখানে মাটি, বল্লা সহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফি বছর নদী বাঁধ ভাঙে মহকুমা এলাকায়। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর বোরো বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে না দেওয়া অন্যতম কারণ। তারসঙ্গে রয়েছে বাঁধ সংলগ্ন অংশে অবৈধ নির্মাণ। সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে। তবে বাঁধ তৈরি নিয়ে আরামবাগে তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোরও রয়েছে। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, বাঁধ নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়ে থাকলেও তা প্রকৃত কাজে লাগবে না। তৃণমূল নেতা ও সরকারি অফিসারদের একাংশের কমিশন নিতেই শেষ হয়ে যাবে। তার জেরে প্রত্যেক বছর বাঁধ ভাঙতে থাকবে। পাল্টা তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে নানা ব্যবস্থা নিয়েছেন। বাঁধ মেরামতির কাজও চলছে। কিন্তু মহকুমা বন্যা কবলিত হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র বঞ্চনা করছে। বিজেপির বিধায়করা ভোটে জিতলেও এখানকার মানুষের জন্য কিছু করেননি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ