নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিংয়ের আপ্তসহায়ক শেখর চৌধুরী ওরফে বান্টিকে খুনের ঘটনার তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি, স্ত্রীকে চাকরির আশ্বাস দিয়েছেন। গত বুধবার গভীর রাতে শেখর চৌধুরী প্রকাশ্যে মদ্যপান করার প্রতিবাদ করায় তাঁকে ইট দিয়ে নৃশংসভাবে মারা হয়। রবিবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয় কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে। নোয়াপাড়া থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা সুনীল সিংকে সঙ্গে নিয়ে মৃত শেখর চৌধুরীর বাড়ি যান অর্জুন। কথা বলেন তাঁর মা ও স্ত্রীর সঙ্গে। তাঁদের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা তুলে দিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী।
নোয়াপাড়া থানার কাছেই কীভাবে মাদক কারবার চলত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার লোকজন। নিহতের স্ত্রী মোনা চৌধুরী বলেন, স্বামীর খুনিদের ফাঁসি দিতে হবে। আমার স্বামী যখন বেঁচে নেই, খুনিদেরও বাঁচার অধিকার নেই। স্বামী ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে, তাই মন্ত্রীর কাছে একটি চাকরির আবেদন করেছি। আট মাসের সন্তান ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে দেখভাল করতে একটা স্থায়ী চাকরি খুবই প্রয়োজন। অর্জুন বলেন, রাজ্যকে জঙ্গলে পরিণত করেছিল তৃণমূল। একজন মদ ও হেরোইন খাওয়ার প্রতিবাদ করেছিলেন, তাঁকে নৃশংসভাবে খুন হতে হল। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের আশ্রয়ে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে মদ, গাঁজা, হেরোইন বিক্রি ও সেবন করত। অর্জুন সিং আরও বলেন, নোয়াপাড়া থানার পাশেই মূল অভিযুক্ত আমন চৌধুরীর মাসি সোনা চৌধুরী হেরোইনের ব্যবসা করতেন। মহিলা পলাতক, উনিও গ্রেপ্তার হবেন। মন্ত্রীর আশ্বাস, মৃতের স্ত্রীকে গাড়ুলিয়া পুরসভায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে, যাতে তিনি সন্তানের ঠিকমতো ভরণপোষণ করতে পারেন। খুনিদের ফাঁসি দেওয়ার জন্য পরিবারের মহিলারা মন্ত্রীর কাছে কাতর আবেদন করেন।