নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার তোলাবাজি ইস্যুতে সুর চড়ালেন পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, দুই মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পালের পর মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে তোলাবাজদের বিরুদ্ধে সরব অর্জুন। তাঁর বক্তব্য, শুধু উষ্মা প্রকাশ করলে চলবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলকে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, চা শ্রমিকদের মজুরি, পিএফ, গ্র্যাচুইটি খেলাপিতে অভিযুক্ত ৩৪টি বাগান মালিককে করা হবে ‘কালো তালিকাভুক্ত’। তাদের আর কোনো বাগানের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এ কথা স্পষ্ট করে জানান শ্রমমন্ত্রী।
লেবার কোড হলেই চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি চালু হবে বলেও জানান শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মংপুর সিনকোনা বাগানের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শীঘ্রই তা কার্যকরি হবে।
এদিন দাগাপুরে শ্রমিকদের জন্য নির্মীয়মাণ ভবন পরিদর্শন করেন শ্রমমন্ত্রী। এখানেই তোলাবাজি ইস্যুতে শ্রমমন্ত্রী মুখ খোলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর বক্তব্য, শুধু উষ্মা প্রকাশ করলে হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা করছেন (তোলাবাজি), তারা দলের ক্ষতি করছেন। অভিযুক্তদের অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তোলাবাজি ইস্যুতে গলা ফাটাচ্ছেন বিজেপি নেতারা। ইতিমধ্যে দলের রাজ্য সভাপতি দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছেন। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিষয়টি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এবার শ্রমমন্ত্রী সরব হওয়ায় রাজনীতির ময়দানে শোরগোল পড়েছে।
দুপুরে শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে শ্রমদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন মন্ত্রী। বৈঠকে চা বাগানের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বেশকিছু চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হন শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের পিএফ, গ্র্যাচুইটি, ইএসআই, মজুরি দিচ্ছে না কিছু বাগান মালিক। যারা প্রোমোটারের কায়দায় বাগানে এসেছেন। তাদের বাগান থেকে হটাতে হবে। তাদের সঙ্গে বাগানের লিজ পুনর্নবীকরণ করা হবে না।
পিএফ, গ্র্যাচুইটি, মজুরি খেলাপিতে অভিযুক্ত সংস্থাদের কি ব্ল্যাকলিস্টেড করা হবে? শ্রমমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলে এমন ৩৪টি সংস্থা রয়েছে। সেগুলিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। যতদিন পর্যন্ত শ্রমিকদের পাওনা না মেটাবে, ততদিন পর্যন্ত চা বাগানের জমিকে পর্যটনের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সেই সঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগে শাসকদল বন্ধ বাগানের মালিকানা ঠিক করে দিত। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল চা বাগানের জমি দখল করে হোটেল, রিসর্ট বানানো।
এরএদিন শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউজে প্রশাসনিক বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী। বৈঠকে চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে শ্রমমন্ত্রী বলেন, চা বাগানের রাস্তা থেকে ক্রেশ নির্মাণ সবই রাজ্য সরকার করে দেবে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা শ্রমিকদের প্রদান করা হবে। লেবার কোড চালু হলেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি চালু হয়েছে।
অন্যদিকে, মংপুতে উদ্যানপালন দপ্তরের অধীনে রয়েছে সিনকোনা বাগান। এদিন শ্রমমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বাগান পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, বর্তমানে সেখানকার শ্রমিকরা দৈনিক ৩৩৩ টাকা করে মজুরি পান। শ্রমমন্ত্রী বলেন, ওই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।