


‘হামারি আধুরি কাহানি...।’ সত্যি ‘অসম্পূর্ণ’ রইল কাহিনিটা। মাঝপথেই গল্পের ইতি টানলেন অরিজিৎ সিং। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অরিজিৎ জানালেন, আর প্লেব্যাক করবেন না তিনি। আর তাতেই একরাশ হতাশা, কষ্ট আর স্মৃতির কোলাজ গ্রাস করল একটা গোটা প্রজন্মকে। ‘কিঁউ কি তুম হি হো’ যাঁদের প্রেমের পরিভাষা, ‘ফিরভি তুমকো চাহুঙ্গা’ যাঁদের বিচ্ছেদের প্লেলিস্টে মাস্ট... সকলেই হতবাক অরিজিতের সিদ্ধান্তে। এদিন সন্ধ্যায় ফেসবুকে অরিজিৎ লেখেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতা হিসাবে আপনারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, এখন থেকে প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসাবে আর কোনো নতুন কাজ করব না। আমি এখানেই সফর শেষ করছি। তবে গান ছাড়ছি না।’ মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের অরিজিতের মুম্বই জার্নি এক স্বপ্নউড়ান। ১৮ বছর বয়সে ‘ফেম গুরুকুল’। অনুষ্ঠান চলাকালীনই নজর কাড়েন সঞ্জয়লীলা বনশালীর। ‘সাওয়ারিয়া’ ছবিতে ‘ইউ শবনমি’ গানটি গাওয়ার সুযোগ পান অরিজিৎ। পরবর্তীতে চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে গানটি সরিয়ে ফেলেন পরিচালক। ভেঙে পড়েননি অরিজিৎ। সেটি তাঁর ডিকশনারিতে নেই বলেই বোধহয়। পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করলেন মুম্বইয়ে। একটি ভাড়াবাড়িতে। এই সময় বেশ কয়েকটি গানে প্রীতমের সঙ্গে কাজ। হিন্দি ছবিতে প্লেব্যাক গায়ক হিসাবে হাতেখড়ি হল ‘মার্ডার ২’ ছবিতে। ‘ফির মহব্বত করনে চলা’। ‘এজেন্ট বিনোদ’ ছবির ‘রবতা’, ‘বরফি’র ‘ফির লে আয়া দিল’... ধীরে ধীরে বাড়ছিল জনপ্রিয়তা। তা শিখর ছুঁল ‘আশিকি ২’-এর হাত ধরে। ‘তুম হি হো’ গান তাঁকে এনে দিল ফিল্ম ফেয়ার। ‘সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক’। ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘জ্যাকপট’, ‘রামলীলা’— বহু ছবি সমৃদ্ধ তাঁর কণ্ঠে। ‘খামোশিয়াঁ’, ‘তুঝে কিতনা চাহনে লগে’, ‘কেসরিয়া’, ‘সজনি রে’, ‘চন্না মেরেয়া’, ‘আপনা বানা লে’... তাঁর প্লেব্যাকের সংখ্যা অগণিত। কেবল হিন্দি কেন, বাংলাতেও বহু ছবির প্লেব্যাক করেছেন অরিজিৎ। সবার আগে অবশ্যই ‘বোঝে না সে বোঝে না’। সম্প্রতি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবির ‘ক্ষণে গোরাচাঁদ’ গানের জনপ্রিয়তা আলাদা করে বলতে হয়। ঠিক যেমন উল্লেখ করতে হয় বলিউডে তাঁর অবদানের কথা। এক সময় বড়ো বাজেটের হিন্দি সিনেমার সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন অরিজিৎ। সেই অরিজিৎ, যাঁর সঙ্গে সলমন খানের দ্বৈরথ কারো অজানা নয়। তা সত্ত্বেও তাঁকে কেউ থামাতে পারেনি। সলমনের পরবর্তী ছবি ‘ব্যাটল অব গলওয়ান’-এ শোনা যাবে অরিজিতের প্লেব্যাক। শোনা যাবে বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’তেও। হয়তো শেষবার। মন মানতে চায় না অনুরাগীদের। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে প্লেব্যাক সফরে ইতি? অনেকের আশা, হয়তো হ্যাক হয়েছে অ্যাকাউন্ট। জল্পনা, আন্তর্জাতিক সফর শুরু হচ্ছে অরিজিতের। এড শিরান, মার্টিন গ্যারিক্সের সঙ্গে কোলাবরেশন হয়তো সে কারণেই। সিনেমাও পরিচালনা করছেন। আবার, মঞ্চে নিয়মিত শোনা যাবে ‘প্রিয়’ গায়কের কণ্ঠ। তাঁর আশ্বাস, গান ছাড়ছেন না। তবুও মন মানতে চায় না। কাহানি ‘আধুরি’ই রইল যে...।