নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ঘুড়ি ওড়ানোর সময় সেটি পড়ে গিয়েছিল প্রতিবেশীর ছাদে। সেই ঘুড়ি কুড়িয়ে আনতে গেলে শুরু হয় বচসা। তারই জেরে গভীর রাতে এক যুবকের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত প্রতিবেশী মনোজ সিং ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত যুবক সন্দীপ রায় হাওড়া জেলা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। হাওড়ার নাজিরগঞ্জের চুনাভাটি এলাকার এই ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে চুনাভাটি লেবুখালির বাসিন্দা পেশায় গাড়িচালক সন্দীপ বাড়ির কাছেই ঘুড়ি ওড়াচ্ছিলেন। ঘুড়িটি প্রতিবেশী মনোজ সিং নামের এক ব্যক্তির বাড়ির ছাদে গিয়ে পড়ে। সন্দীপ মনোজের বাড়ি থেকে ঘুড়িটি আনতে যান। তখনই ঝামেলার সূত্রপাত। অভিযোগ, মনোজ ঘুড়ি দিতে অস্বীকার করেন। তখন দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি, এমনকী হাতাহাতিও হয়। এরপর সন্দীপ নিজের বাড়িতে চলে আসেন। রাত দশটা নাগাদ মনোজের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল বাইকে চেপে সন্দীপের বাড়িতে চড়াও হয়। এরপর দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে স্ত্রী ও শিশু সন্তানের সামনেই সন্দীপকে বাঁশ, লোহার রড, হকি স্টিক দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। রেহাই পাননি সন্দীপের স্ত্রীও। তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। আক্রমণকারীদের কয়েকজনকে তাঁরা ধরে ফেলেন। তাঁদের বাইক ভাঙচুর করা হয়। মূল অভিযুক্ত মনোজ সহ বাকিরা চম্পট দেন।
এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় সন্দীপকে প্রথমে স্থানীয় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরেই এলাকায় আসে নাজিরগঞ্জ ফাঁড়ির বিশাল পুলিস বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিসকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল মণ্ডল, সুদীপা মণ্ডল, বাসন্তী বাগরা বলেন, সামান্য ঘুড়ি নিয়ে আমাদের পাড়ার ছেলেকে মারধর করেছে কয়েকজন। রড দিয়ে মেরে ওঁর পা ভেঙে দিয়েছে। পুলিস কড়া ব্যবস্থা নিক। আক্রান্ত যুবকের বাবা ভোলা রায় বলেন, অভিযুক্ত মনোজ একজন জেলফেরত আসামী। বিভিন্ন দুষ্কৃতীমূলক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শনিবার পর্যন্ত ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নাজিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিস। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির সুপারিশ করা হবে।