আর্জেন্তিনা- ৩ : কেপ ভার্দে- ২
আর্জেন্তিনা- ৩ : কেপ ভার্দে- ২
শিশির ঘোষ: গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বনাম নক-আউটে প্রথমবার খেলতে নামা দলের লড়াই। চোখ বন্ধ করে সকলেই এই ম্যাচে আর্জেন্তিনাকে এগিয়ে রেখেছিল। সেটাই স্বাভাবিক। তবে চলতি টুর্নামেন্টে কেপ ভার্দে অঘটন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে খেলতে এসেছে। এই ম্যাচ তার বড় প্রমাণ। স্রেফ মনের জোর আর হার না মানা মানসিকতা নিয়েই আর্জেন্তিনাকে কাঁদিয়ে ছাড়ল কেপ ভার্দে। দু’বার পিছিয়ে পড়েও তাদের এই প্রত্যাবর্তন কোনো রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে। কে বলবে, এই দলে নেই কোনো তারকা। অথচ ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে তারা অপরাজিত। ‘চ্যাম্পিয়ন্স লাক’ ফ্যাক্টরে শেষ পর্যন্ত ১২০ মিনিটের লড়াই জিতে শেষ ষোলোয় মিশরের মুখোমুখি হবে লায়োনেল স্কালোনির ছেলেরা। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ এটি। আর এর যাবতীয় কৃতিত্ব কেপ ভার্দে ফুটবলারদের। সত্যিই ওরা আমার মন জিতে নিয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে এখনও ১১ বার বিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছে আর্জেন্তিনা। তার মধ্যে মেসি একাই করেছে ৭টি। কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসেও নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছে বাঁপায়ের জাদুকর। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আরও একবার তার গোলেই লিড নেয় তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২৯ মিনিটে লিসান্ড্রো মার্তিনেজের ঠিকানা লেখা সেন্টার থেকে দলকে এগিয়ে দেয় মেসি। বিপক্ষ বক্সে আউটস্টেপে বলটা রিসিভ করে দুরন্ত জ্যাবে জাল কাঁপায় এলএমটেন (১-০)। এক্ষেত্রে ভোজিনহার কিছু করার ছিল না। এই পর্বে মনে হয়েছিল, সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে আর্জেন্তিনা। আর এই মানসিকতা স্কালোনি-ব্রিগেডের মধ্যে কাজও করছিল। তাই কিছুটা গাছাড়া মনোভাব দেখা যায় তাদের খেলায়।
বিরতির পর দুরন্ত গোলে কেপ ভার্দেকে সমতায় ফেরায় দেরয় দুয়ার্তে (১-১)। এক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারে না আর্জেন্তিনার উইং-ব্যাক। তা নজর এড়ায়নি কোচ স্কালোনিরও। তাই দ্রুত দলে পরিবর্তনের পথে হাঁটেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের বাকিটা শুধুই মেসি বনাম ভোজিনহা দ্বৈরথে সীমাবদ্ধ থাকল। অন্তত তিনবার দলের নিশ্চিত পতন রুখে খেলা অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় কেপ ভার্দের দুর্গপ্রহরী। ৯২ মিনিটে ফের লিড নেয় আর্জেন্তিনা। বিপক্ষ বক্সের ডানদিক থেকে গোল লিসান্দ্রো মার্তিনেজের (২-১)। এই পর্বে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথার এখানেই সমাপ্তি। ঠিক তখনই বিপক্ষ বক্সের বাইরে বাঁ দিকে বল পায় লোপেজ। কাট করে ভিতরে ঢুকে বক্সের মাথা থেকে তাঁর দুর্দান্ত শট আছড়ে পড়ে আর্জেন্তিনার জালে (২-২)। নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল। এমনকি, এরপরে মাথায় হাত দিতে দেখা যায় মেসিকে। তবে ওভাবে কেপ ভার্দে দল গ্যালারিতে উঠে সেলিব্রেশন না-ও করতে পারত। সেখানেই হয়তো ফোকাস হারিয়ে ফেলে তারা। ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে বিদায় নেয় ভোজিনহারা। কর্নার থেকে মেসির ভাসানো সেন্টার থেকে রোমেরোর হেড বিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায় (৩-২)। তাতেই যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে স্কালোনি ব্রিগেডের।