Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ শিলিগুড়িতে ইসকনের রথযাত্রায় নামবে ভক্তের ঢল

আজ শিলিগুড়িতে ইসকনের রথযাত্রায় নামবে ভক্তের ঢল
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত • শিলিগুড়ি

Advertisement

জগন্নাথদেবের রথযাত্রা দেখতে শিলিগুড়ি ও লাগোয়া এলাকায় বাসিন্দাদের পক্ষে পুরী বা মায়াপুর যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেই সাধপূরণ করছে শিলিগুড়ি ইসকন মন্দির। শিলিগুড়িতে ইসকন মন্দির স্থাপিত হওয়ার পর থেকে রথযাত্রা হয়ে আসছে মহা ধুমধাম করে। এবার শিলিগুড়ির ইসকনের রথ যাত্রার ৩৬ বছর। আজ ইসকনের রথকে ঘিরে শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হবে। নানা প্রান্তের নানা বর্ণের মানুষ শামিল হবেন ইসকনের রথযাত্রায়। 
এখানে রথযাত্রার প্রতিটি আচার অনুষ্ঠান নিষ্ঠা নিয়ম সহকারে হয়। মন্দিরের জনসংযোগ আধিকারিক নামকৃষ্ণ দাস বলেন, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে আমরা রথের সব আয়োজন করি। মাসির বাড়িতে সাতদিন ধরে জগন্নাথ দেবকে ৫৬ ভোগ দেওয়া হয়। এই ভোগ নিয়ে ভক্তদের প্রচুর উৎসাহ ও কৌতুহল রয়েছে।
মাসির বাড়িতে সাতদিন ধরে ৫৬ ভোগে কী না থাকে। চারপাশে খাবার আর খাবার। নামকৃষ্ণ বলেন, জগন্নাথ দেবকে সাতদিনে ছয় প্রহরে যে ৫৬ ভোগ নিবেদন করা হয়, ঘি ভাত, পোলাও, মিষ্টি ডাল, কলার বড়া, আদার চাটনি, মুড়িগুড় মাখা, নারকেল নাড়ু, দই, টুকরো টুকরো কলা, শুকনো খিচুড়ি, কেক, শাক ভাজা, করলা ভাজা, বুন্দিয়া, পান্তা ভাত, দুধভাত, সহ অনেক কিছু থাকে। প্রভুর মহাপ্রসাদ ভক্তদেরও বিতরণ করা হয়। আর এই রথের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দিয়ে। সেটাও দেখার মতো। যা দেখতে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয় মন্দিরে। স্নানযাত্রা থেকে উল্টোরথ পর্যন্ত টানা কয়েকদিনের শিলিগুড়ি ইসকন মন্দির উৎসবে মেতে ওঠে। ভক্তরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠেন।
এখানে মহা ধুমধাম করে পালিত হয় স্নানযাত্রা উৎসব। দুধ, দই, ঘি, মধু, বিভিন্ন রকম ফলের রস এবং সহস্রতীর্থের পবিত্র জল দিয়ে জগন্নাথ, বলদেব সুভদ্রা দেবীকে স্নান করানো হল। 
নামকৃষ্ণ দাস বলেন, স্নানযাত্রার দিন থেকে জগন্নাথ অনবসর লীলা করবেন অর্থাথ, অসুস্থ থাকবেন। তাই ১৫ দিন মন্দির বন্ধ থাকে। জগন্নাথ দেবকে দেওয়া হবে আয়ুর্বেদ ওষুধ। জগন্নাথের মাসির বাড়িকে বলা হয় গুণ্ডীচা মন্দির। এবার ইসকনের অডিটোরিয়ামে তৈরি হচ্ছে এই গুণ্ডীচা মন্দির। উল্টোরথের আগ পর্যন্ত সাতদিন ধরে চলে জগন্নাথের মাসির বাড়ি উৎসব। নামকৃষ্ণ দাস বলেন, এই উৎসবে থাকে, জগন্নাথের লীলাকথা ভিত্তিক আধ্যাত্মিক প্রবন্ধ ও প্রবচন, বিশেষ পূজা, মহা আরতি, নাট্যরূপে জগন্নাথের দিব্য লীলা এবং বিভিন্ন সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। শিলিগুড়ির ইসকন মন্দিরে বসে ভক্তরা পুরীর রথযাত্রা উৎসবের স্বাদ পাবেন।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ