নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বয়স্করা কী কী আইনি সহায়তা পেতে পারেন, সন্তানরা বাবা মায়ের দায়িত্ব না নিলে কীভাবে খরপোষ আদায় করা সম্ভব, ইত্যাদি নানা বিষয়ে আসানসোলের বয়স্ক নাগরিকদের সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছিল মহকুমা প্রশাসন। বুধবার আসানসোল মহকুমা শাসক অফিসে সেই আলোচনার মাঝেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আসানসোলের মহকুমা শাসক সাধন দেবনাথ। তিনি মিটিংয়ে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের অভিযোগ নিয়ে যখন বয়স্ক মানুষজন যান আপনারা অভিযোগ নেন? আইনের নির্দিষ্ট ধারায় তাঁরা কিন্তু অভিযোগ জানাতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি আরও বলেন, অনেক সময়ে বয়স্ক মানুষজন এসে আমাদের কাছে অভিযোগ করেন, পুলিশ অভিযোগ নিচ্ছে না।
মহকুমা শাসকের প্রশ্নে অস্বস্তিতে পড়েন মহিলা পুলিশ আধিকারিক। তিনি বলেন, বহু ক্ষেত্রেই খুবই সামান্য বিষয় নিয়ে মানুষ থানায় চলে আসেন। যে অপরাধ কোনো ধারাতেই আসে না। সেক্ষেত্রে হয় আমরা মীমাংসা করে দিই, না হলে জেলা প্রশাসনের প্রোটেকশন অফিসারের কাছে যেতে বলা হয়। তাছাড়া গুরুতর অভিযোগ থাকলে মামলা রুজু করা হয়।
এদিন দুপুরে সিনিয়র সিটিজেন মেনটেন্সে থেকে শুরু করে তারা কী কী সরকারি সাহায্য পেতে পারে তা নিয়ে এই ওয়ার্কশপে হাজির হয়েছিলেন ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অর্থারিটির সচিব বিচারক আম্রপালি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী বয়স্করা আমাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে আইনি সাহায্য পাবেন। কোন রকম অন্যায় তাঁদের প্রতি হচ্ছে মনে হলে তাঁরা আইনি সহায়তা কেন্দ্রের দ্বারস্থ হতে পারেন। তিনি বলেন, অনেক সময়েই পিতামাতা সন্তানের প্রতি স্নেহে তাঁদের শেষ সম্বল বাড়িটাও তাঁদের নামে লিখে দেন। এরপর সেই বাড়ি থেকেই বাবা, মাকে উৎখাত করে দিলেন। তখন তিনি চাইলে নিজের দান করে দেওয়া বাড়ি অতি দ্রুত ফিরিয়ে নিতে পারেন। প্রতি মহকুমায় একটি করে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য মেনটেন্স ট্রাইবুনাল রয়েছে। যাঁর সভাপতি এসডিও। তিনিই সে ক্ষেত্রে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেবেন। তিনি বলেন, এই ট্রাইবুনাল মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরপোশের নির্দেশ দিতে পারেন। এরপরই বয়স্কদের সাহায্য করতে বিচারক নিজের অফিস ও নিজের মোবাইল নম্বর তাঁদের দেন। তাঁদের অফিসের ফোন নম্বর ০৩৪১-২২৫৭৪৬২ ।
এদিন আলোচনায় উঠে আসে কোনো বয়স্ক দম্পত্তি যদি নিঃসন্তান হন, তিনিও মেনটেন্সের দাবি জানাতে পারেন তাঁর নিকটতম আত্মীয়র কাছে। যিনি তাঁদের অবর্তমানে আইনি সূত্রে তাঁদের সম্পত্তি পাবেন। যদিও এদিন বয়স্কদের উদ্দেশে জানানো হয়, কোনো সন্তান আপনাদের না দেখলে নিজের উপার্জিত সম্পদ তাঁকে নাও দিতে পারেন। কিন্তু তিনি যদি বংশপরম্পরায় কোনো সম্পত্তি পেয়ে থাকেন, তা নিজের সন্তানকে না দিয়ে বঞ্চিত করতে পারবেন না। আসানসোলের মহকুমা শাসক সাধন দেবনাথ বলেন, এবছর তাঁর কাছে ছ’টি মেনটেন্সে মামলা এসেছে। মামলাগুলি নিস্পত্তি করতে গড়ে দেড় থেকে দু’ বছর সময় লাগছে। তা দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।