Bartaman Logo
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যোগ্যরা আবাসের সুবিধা পাচ্ছেন? বাঁকুড়ায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার বাড়িতে আবারও সার্ভে

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যোগ্যরা বাড়ি পাচ্ছেন কি না, তা দেখতে ফের বাঁকুড়ায় সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য

যোগ্যরা আবাসের সুবিধা পাচ্ছেন? বাঁকুড়ায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার বাড়িতে আবারও সার্ভে
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যোগ্যরা বাড়ি পাচ্ছেন কি না, তা দেখতে ফের বাঁকুড়ায় সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। প্রথম দফার সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য যাচাই করবেন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাঁরা জেলার ১ লক্ষ ২৪ হাজার সম্ভাব্য উপভোক্তার বাড়ি যাবেন। এলাকায় গিয়ে তাঁরা তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বাড়ির অবস্থা খতিয়ে দেখবেন। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

Advertisement

বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) তথা প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলাস্তরের আধিকারিক সৌমেন মাইতি বলেন, প্রকৃত যোগ্যরা যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়েন এবং অযোগ্যরা যাতে প্রকল্পের সুবিধা না পায়, তা রাজ্য সরকার নিশ্চিত করতে চাইছে। সেই কারণেই ফের সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এব্যাপারে বৈঠক করেছি। শীঘ্রই ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা এলাকায় গিয়ে সমীক্ষার কাজ শুরু করবেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকার পর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা পেতে চলেছে বাংলা। রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কেন্দ্র টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সেইমতো রাজ্য সরকার জেলায় জেলায় নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা তড়িঘড়ি করে জেলায় সম্ভাব্য উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করেন। বাঁকুড়ায় প্রথমে ১ লক্ষ ৪০ হাজার উপভোক্তার তালিকা তৈরি করা হয়। পরে রাজ্য থেকে উপভোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মতো আরও এক লক্ষ নতুন বাড়ি সমীক্ষা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে সংখ্যাটা বেড়ে ২ লক্ষ ৯৫ হাজারে গিয়ে দাঁড়ায়। পঞ্চায়েতস্তরের কর্মীরা তিন লক্ষের কাছাকাছি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছেন। ওই রিপোর্ট ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে। ওইসব উপভোক্তা যোগ্য কি না, তা নতুন সরকার যাচাই করে দেখে নিতে চাইছে। সেই কারণেই পুনরায় সমীক্ষা চালাতে বলা হয়েছে। 
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আমরা ২লক্ষ ৪০হাজার বাড়িতে সমীক্ষা চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে ১০০শতাংশ সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার পরেও থেমে যাইনি। কারণ লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও কোনো ব্লক এলাকায় মাটির বাড়ি থাকলে তা সমীক্ষার আওতায় আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই রকম প্রায় ৫৫ হাজার বাড়ি তথা পরিবার নতুন করে সমীক্ষার আওতায় এসেছে। তাতেই সম্ভাব্য উপভোক্তার সংখ্যা তিন লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সমীক্ষা চালানোর সময় বাড়িতে শৌচালয় আছে কি না তাও দেখা হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী আবাসের সঙ্গে স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পের কাজ কতটা এগিয়েছে, তাও পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। আবাসের উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে বাড়িতে শৌচালয় নির্মাণ বাধ্যতামূলক। কারও বাড়িতে অবশ্য আগে থেকেই শৌচালয় থাকলে কোনো অসুবিধা নেই। খোলা স্থানে শৌচকর্ম বন্ধ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। শুধুমাত্র খাতায়কলমে নির্মল ব্লক হিসাবে না থেকে বাস্তবেও প্রকল্পের সঠিক রূপায়নণ যাতে হয়, তারজন্য বিডিওদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ