Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না কোচের? বিস্ফোরক ক্যাগ রিপোর্টে প্রশ্নের মুখে রেল

রেলের যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে আরও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এল। ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণই হচ্ছে না বিভিন্ন রেল কোচের?

ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না কোচের? বিস্ফোরক ক্যাগ রিপোর্টে প্রশ্নের মুখে রেল
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:  রেলের যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে আরও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এল। ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণই হচ্ছে না বিভিন্ন রেল কোচের? ক্যাগের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্নে তুমুল জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। যত কোচের রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন, তার প্রায় অর্ধেক সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কশপে পাঠানো হয়েছে নির্ধারিত সময়সীমার তিন মাসেরও পর। সম্প্রতি সংসদে এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পেশ করেছে ক্যাগ। সেখানেই রেলের পূর্ব উপকূলীয় (ইস্ট কোস্ট রেলওয়ে) জোনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ভুবনেশ্বর, পুরী, সম্বলপুর, বিশাখাপত্তনম - পূর্ব উপকূলীয় রেলওয়ে জোনের এই চারটি ডিপোর বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রেলের বাকি জোনগুলিতে তাহলে কী পরিস্থিতি? সেখানে কি অবস্থা আরও গুরুতর? রেল যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ট্রেন কোচের এই রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদতে এর টেকনিক্যাল পরিভাষা হল, পিওএইচ অথবা ‘পিরিয়ডিক ওভারহল’। সময়ে সময়ে নিয়মিতভাবে রেল কোচের এই রক্ষণাবেক্ষণ না হলে যেকোনও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। ফলে এই ইস্যুতে আশঙ্কা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে রেল যাত্রীদের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট ক্যাগ রিপোর্টে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়সীমার উল্লেখ করা হয়েছে। 

Advertisement

বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে পূর্ব উপকূলীয় রেল জোনের উল্লিখিত চারটি ডিপো মোট ৩ হাজার ৮৬টি কোচকে ওয়ার্কশপে পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ২৭৯টি কোচকেই পাঠানো হয়েছিল নির্ধারিত সময়সীমার তিন মাসেরও বেশি দেরিতে। অর্থাৎ, যত কোচ পাঠানো হয়েছিল, তার প্রায় ৪২ শতাংশের রক্ষণাবেক্ষণ সঠিক সময়ে হয়নি। এমন ১৬৭টি কোচ পাঠানো হয়েছিল, যেগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত ছিল আরও তিন থেকে ছ’মাস আগে। ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণে দেরি হয়েছে, এমন কোচের সংখ্যা পূর্ব উপকূলীয় রেলে ৪৫টি। রক্ষণাবেক্ষণে এক বছরেরও বেশি দেরি হয়েছে, এমন কোচের সংখ্যা সাতটি। এহেন পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। এই ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে ডিপো কর্তৃপক্ষের জবাবেও বিশেষ সন্তুষ্ট হয়নি ক্যাগ। কর্তৃপক্ষের সাফাই ছিল, করোনার কারণে পিরিয়ডিক ওভারহলে কিছুটা দেরি হয়েছিল। কিন্তু ক্যাগ রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনার আগেও ইস্ট কোস্ট রেলওয়ের এহেন প্রবণতা একইভাবে বজায় ছিল। করোনা মহামারির আগে ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে দেরিতে রক্ষণাবেক্ষণ হওয়া কোচের হার সংশ্লিষ্ট রেল জোনে ছিল যথাক্রমে ২৯ শতাংশ ও ২৩ শতাংশ।

সম্পর্কিত সংবাদ