Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আর জি কর কাণ্ডের জের, প্রতিটি ডিউটিরুমের বাইরে বসল বায়োমেট্রিক মেশিন

আর জি কর কাণ্ডের জের, প্রতিটি ডিউটিরুমের বাইরে বসল বায়োমেট্রিক মেশিন
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এবার রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রতিটি ডিউটি রুমের বাইরে বসানো হল বায়োমেট্রিক মেশিন। দরজাতেও লাগানো হচ্ছে বিশেষ যন্ত্র। রেজিস্টার্ড চিকিৎসক, নার্সদের আঙুলের ছাপেই খুলবে দরজা। সেই সঙ্গে বসানো হচ্ছে অ্যালার্ম। সব মিলিয়ে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা বলয়ে মুড়তে চলেছে এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। 
Advertisement
আর জি করে ডিউটিরত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে যায়। যার জেরে রাজ্যের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেয় আদালত। জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি মতো রামপুরহাট মেডিক্যালের ইমারজেন্সি ও প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রবেশ পথে বসানো হয় কোলাপসিবল গেট। যাতে ইচ্ছে মতো যে কেউ ঢুকতে না পারেন। সেই সঙ্গে মেডিক্যাল ক্যাম্পাসে থাকা নার্সিং কলেজের একটি রুমে স্থায়ী পুলিস ক্যাম্প করা হয়েছে। যেখানে অফিসার মিলিয়ে ৩১ জন পুলিস কর্মী সর্বদা থাকছেন। অন্যদিকে মেডিক্যালের প্রায় ১৭০ জন সিকিউরিটি গার্ডকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে পুলিস। প্রায় চারশোর বেশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা মেডিক্যালের অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সাত কিমি দূরের হস্টেলে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। এবার প্রতিটি ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সদের ডিউটি রুমের বাইরে বসানো হল বায়োমেট্রিক মেশিন। সেই সঙ্গে দরজায় বিশেষ যন্ত্র। যা আঙুলের ছাপেই খুলবে। 
মেডিক্যালের অধ্যক্ষ করবী বড়াল বলেন, মেডিক্যালের সমস্ত ডিউটি রুম মিলিয়ে ২৩টি জায়গায় বসানো হয়েছে বায়োমেট্রিক মেশিন। তিনি বলেন, ডিউটি রুমে চিকিৎসকদের বিশ্রাম রুম, নার্সদের বিশ্রাম রুম এবং রোগীর আত্মীয়স্বজনদের আনাগোনা রয়েছে এমন ব্ল্যাড ব্যাঙ্ক, ইমারজেন্সি রুমেও বসানো হয়েছে। যাদের নাম রেজিস্টার্ড থাকবে তাঁরাই ওই মেশিনে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে ভিতরে ঢুকতে পারবেন। যাঁরা বদলি হয়ে যাবেন তাঁদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে। তবে মেশিনগুলি বসানো হলেও এখনও সিস্টেম চালু হয়নি। কারণ, কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে সেই সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ হবে। তারপর তা চালু করা হবে। 
মেডিক্যাল সূত্রে খবর, হাসপাতাল, অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং, হস্টেল মিলিয়ে ৬০টি অ্যালার্ম বসানো হবে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যালার্মের বোতাম চাপলেই পুলিস ক্যাম্পে তা বেজে উঠবে। মেয়েদের হস্টেলের প্রতিটি ফ্লোরে ও ছেলেদের হস্টেলে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় থাকবে অ্যালার্ম। এছাড়া এমএসভিপির অফিসেও অ্যালার্ম বসবে।  
নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ায় খুশি জুনিয়র চিকিৎসকরা। আমির সিদ্দিকি নামে এক জুনিয়র চিকিৎসক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কথা মতো নিরাপত্তা সংক্রান্ত সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালু হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো হয়েছে।  
সম্পর্কিত সংবাদ