Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আর হাতপাখা তৈরি হয় না, অন্য‌ পেশায় বড়ঞার দুই গ্রামের শিল্পীরা

আর হাতপাখা তৈরি হয় না, অন্য‌ পেশায় বড়ঞার দুই গ্রামের শিল্পীরা
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: একসময় তালপাতার হাতপাখার ভালো বাজার ছিল। গরমের হাত থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে হাতপাখাই অনেকের সম্বল ছিল। কিন্তু এখন তা বিলুপ্তির মুখে। বড়ঞা ব্লকের জালিবাগান ও কাঁতুর গ্রামে শতাধিক পরিবার তালপাতার হাতপাখা তৈরি করত। তবে এখন গ্রামের কোনও পরিবারই আর হাতপাখা তৈরি করে না। সকলেই অন্য পেশায় চলে গিয়েছে। এমনকী ওইসব বাড়িতেও বৈদ্যুতিক ফ্যান ঘুরছে। অনেকের বাড়িতেই নিজেদের ঐতিহ্যের হাতপাখার দেখা মেলা ভার।
Advertisement
জালিবাগান গ্রামের বৃদ্ধ শশাঙ্ক বিত্তার বলেন, তালপাতার হাতপাখা এখন আর গ্রামের কেউ তৈরি করে না। অথচ যখন পাখার দর চারআনা বা ২৫পয়সা ছিল তখন থেকে আমরা হাতপাখা তৈরি করতাম। কয়েকবছর আগেও পাখা তৈরি করে ছ’টাকা দরে পাওয়া গিয়েছে। এখন সবাই অন্য কাজ করে।
অথচ বছর কুড়ি আগেও ওই দুই গ্রামের শতাধিক পরিবার তালপাতার হাতপাখা তৈরি করত। ডাকবাংলা পশুহাট, সাঁইথিয়া হাট, মল্লারপুর ও কান্দির মতো বাজারে ওই পাখা বিক্রি করা হতো। অনেকে আবার পাইকারি দরে পাখা সরবরাহ করতেন। তাই ওই দু’টি গ্রামের পাখাশিল্পীদের কদরও ভালো ছিল। গরম পড়লেই গ্রামের অধিকাংশ পরিবার পাখা তৈরির কাজে লেগে যেত। বাড়ির মহিলারা তালপাতা মাপ করে কেটে রাখতেন। পুরুষ-মহিলা মিলে পাখা তৈরি করতেন। তবে সেদিন আর নেই। কাঁতুর গ্রামের উত্তম বিত্তার বলেন, কয়েকবছর আগেও গ্রামের কিছু পরিবার পাখা তৈরি করত। কিন্তু এখন আর কেউ করে না। এখন সকলে অন্য কাজ করে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, এখন গ্রামের অনেক যুবক পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে গিয়েছেন। যাঁরা গ্রামে থাকেন তাঁদের কেউ ছোট ব্যবসা করেন, কেউ আবার কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। অনেকে টোটো- অটো চালান। গ্রামের কয়েকজন সেনাবাহিনীতেও যোগ দিয়েছেন। গ্রামে মাটির বাড়িও হাতে গোনা। বেশিরভাগ বা঩সিন্দা‌ বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি পেয়েছেন। জালিবাগান গ্রামের গৃহবধূ পার্বতী বিত্তার বাড়িতে বসতে দিয়ে বিদ্যুতের পাখা চালিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, এখন আর হাতপাখা পাওয়া যায় না। হাত পাখা পাওয়া খুব মুশকিল। সবার বাড়িতেই এখন ফ্যান রয়েছে। তাই আমাদের বাড়িতেও তালপাতার হাতপাখা নেই।
সম্পর্কিত সংবাদ