


হুবলি: রনজি ট্রফি ফাইনালের শেষ দিনে আম্পায়াররা ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করতেই উৎসব শুরু জম্মু-কাশ্মীর শিবিরে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ের কান্ডারি বেশ কিছুক্ষণ ঠায় বসে রইলেন ড্রেসিং-রুমের চেয়ারে! যেন কল্পনার জগতে ডুবে গিয়েছিলেন আকিব নবি। হয়তো তাঁর চোখে ভাসছিল পাহাড়ের ঢালে একফালি রুক্ষ মাঠ। তার ধুলোভরা পিচে হাড় ফাটানো সেই পরিশ্রম। তিন তিনবার রাজ্য দলের ট্রায়াল থেকে খালি হাতে ফেরার মুহূর্ত। সবকিছুই যেন তালগোল পাকাচ্ছিল বারামুল্লা এক্সেপ্রেসের মাথায়। সম্বিত ফিরল সতীর্থদের উল্লাসে। ঝাপসা চোখ পরিষ্কার করতেই ঠাহর করলেন কখন তাঁকে কাঁধে তুলে নিয়েছেন পরশ ডোগরারা। আসলে আকিবের পেসের আগুনেই যে ফেভারিট কর্ণাটককে ছারখার করে প্রথমবার রনজি ট্রফি জয়ের ইতিহাস গড়ল জম্মু-কাশ্মীর।
গত তিন মরশুম ধরে দুরন্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়ে এসেছেন ২৯ বছরের কাশ্মীরি পেসার। চলতি বছর সাফল্যের সেই গ্রাফ আকাশ ছুঁয়েছে। রাজ্য দলের হয়ে সব ধরণের ক্রিকেটে তাঁর সংগ্রহ ৬০ উইকেট। বিশেষ করে রনজির নক-আউট পর্বে কার্যত একার কাঁধেই দলকে টেনেছেন তিনি। এই পর্বে তিন ম্যাচে তাঁর শিকার ২৬টি। এর মধ্যে কোয়ার্টার-ফাইনালে ১২টি ও সেমি-ফাইনালে ৯টি উইকেট নেন আকিব। আর ফাইনালে কর্ণাটকের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে চুরমার করে দেন লোকেশ রাহুলদের খেতাব জয়ের স্বপ্ন।
আকিবের দুরন্ত সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্কুল শিক্ষক বাবা গুলাম নবি দার। বারামুল্লার শিরি গ্রামের ছোটো কাঠের বাড়িতে বসে তাঁর মন্তব্য, ‘অনেক পরিশ্রম করেছে। আর সে জন্যই ভাগ্য ওকে সঙ্গ দিয়েছে। একটা স্বপ্ন বাস্তব হল। তবে এখনও আরও একটা বড় স্বপ্ন পূরণ করা বাকি। আর সেটা অবশ্যই জাতীয় দলের হয়ে খেলা। আকিবের বড় শক্তি হল নাছোড়বান্দা মনোভাব। আমার বিশ্বাস, জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও তার পূর্ণ সদ্ব্যাবহারই করবে আমার লড়াকু পুত্র।’ এদিকে, চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ২ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ক্রিকেটারদের সরকারি চাকরিও দেওয়া হবে।