Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়া দক্ষিণের ন’টি বিধানসভাতে প্রায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার নাম বাদ! ৫৫ শতাংশই মতুয়া গড়ের

মতুয়া অধ্যুষিত নদীয়া দক্ষিণে ন’টি বিধানসভাতে নাম বাদ গিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার ভোটারের। যা নদীয়া জেলার নাম বাদ যাওয়া মোট ভোটারের প্রায় ৫৫ শতাংশ।

নদীয়া দক্ষিণের ন’টি বিধানসভাতে প্রায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার নাম বাদ! ৫৫ শতাংশই মতুয়া গড়ের
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: মতুয়া অধ্যুষিত নদীয়া দক্ষিণে ন’টি বিধানসভাতে নাম বাদ গিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার ভোটারের। যা নদীয়া জেলার নাম বাদ যাওয়া মোট ভোটারের প্রায় ৫৫ শতাংশ। আর সেই  নদীয়া দক্ষিণে দুদিনে পরপর দুটি জনসভা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা শান্তিপুরে, অপরটি চাকদহ বিধানসভায়। মতুয়া গড়ে দাঁড়িয়েই মতুয়াদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া নিয়ে বিজেপিক হুঙ্কার দিয়েছেন। তেমনি দল থেকে আইনজীবী দিয়ে মতুয়াদের ভোটাধিকার রক্ষা করার আশ্বাসও দিয়েছে। চাকদহর ময়দানে মহিলা ভোটারদের ভিড়ে ঠাসা জনসভায় করতালি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই জনসভার পর আরও উজ্জীবিত তৃণমূল কংগ্রেস। যে মতুয়া ভোটে ভর করে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দক্ষিণের আসন গুলিতে পদ্মফুল ফুটেছিল, সেখানেই এখন অধিকার হরণের আগুনে ফুঁসছেন মতুয়ারা। তাকে এবার হাতিয়ার করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, নদীয়া দক্ষিণের রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভায় ২০ হাজার ৩০০, রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভায় ১৭ হাজার ২০০, এবং কৃষ্ণগঞ্জে ১৫ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। এই তিনটি বিধানসভাতেই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মতুয়া ভোটারের বাস। অন্যদিকে রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভায় যেখানে ১৩ হাজার ৫০০, হরিণঘাটা বিধানসভায় ১১ হাজার ৭০০, শান্তিপুর বিধানসভায় ১০ হাজার ৮০০, চাকদহ বিধানসভায় ১০ হাজার ৭০০, কল্যাণী বিধানসভায় ৭৮০০টি এবং নবদ্বীপে ৬০০০ নাম বাদ গিয়েছে। সব মিলিয়ে নামবাদ পড়ার সংখ্যা ১ লক্ষ ১৪ হাজারের কাছাকাছি। সেখানে সমগ্র নদীয়া জেলায় নাম বাদ গিয়েছে দু’লক্ষ আট হাজার ভোটারের।  বুধবার কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সমীরকুমার পোদ্দারের সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মিছিলে ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা। সেই মিছিলে বাদকুল্লার পাগলাবাবা আশ্রমের অমর গুরুদেব বলেন, ‘বিজেপি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমার সঙ্গে আজ অনেক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ এসেছেন যারা একসময় বিজেপি করতেন। এসআইআর করে বিজেপি মতুয়াদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। একই পরিবারের ১২-১৩ জন ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। যারা ৫০ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন। তাঁদের কেউ আর বিজেপির দিকে যাবে না। সেই জায়গায় তৃণমূল মতুয়াদের আশ্রয় দিচ্ছে। মানুষের সংকটে নয়, আশ্রয়ের খোঁজ করে।
নদীয়া দক্ষিণের তৃণমূলের জেলা সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘৃণ্য খেলায় মেতেছে। মানুষ বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এসে আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন। আমাদের দল মতুয়াদের ভোটাধিকার রক্ষায় সর্বদাই সচেষ্ট থাকবে। নদীয়া দক্ষিণের বিধানসভা গুলিতে এবার ঘাসফুল ফুটছে।
হরিণঘাটা বিধানসভার মতুয়া প্রার্থী রাজীব বিশ্বাস, ‘বিজেপি নাগরিকত্ব দেওয়ার নাম করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের বারবার ব্যবহার করেছে। কিন্তু তাদের কথা ভাবেনি। এসআইআরে বহু মতুয়া ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে। এখন আর বিজেপিকে দেখা যাচ্ছে না। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা এবার ইভিএমে বদলা নিতে প্রস্তুত আছেন। 
অন্যদিক, নদীয়া উত্তরের কালীগঞ্জ বিধানসভার বাদ পড়েছে ১২ হাজার ৬৩৯ ভোটারের নাম। পলাশিপাড়া বিধানসভায় ১২ হাজার ৬১৩ জন, কৃষ্ণনগর দক্ষিণে ১১ হাজার, কৃষ্ণনগর উত্তরে ১০ হাজার ১০০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। নাকাশিপাড়া বিধানসভায় ২১ হাজার ৭৩০ ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ