Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পিএম স্বনিধি প্রকল্পে আবেদন বন্ধ, ক্ষোভ

পিএম স্বনিধি প্রকল্পে আবেদন বন্ধ, ক্ষোভ
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ পিএম স্বনিধি যোজনা। এজন্য শিলিগুড়ি পুরসভায় গিয়েও আবদেনপত্র নিতে পারছেন না হকাররা। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট যোজনার তৃতীয় পর্যায়ে ব্যাঙ্ক ঋণ প্রদানের হারও হতাশাজনক। শিলিগুড়ি শহরে মাত্র তিনজন ব্যবসায়ী ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ পেয়েছেন। অভিযোগ, বেশ কয়েকজন স্ট্রিট ভেন্ডর আবেদন করেও ব্যাঙ্ক থেকে সেই ঋণ পাননি। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা ও পুরসভা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তারা কেন্দ্রীয় সরকার ও ব্যাঙ্কগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। 

Advertisement

কয়েক বছর আগে স্ট্রিট ভেন্ডরদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করতে ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী স্ট্রিট ভেন্ডরর্স আত্মনির্ভর নিধি’ বা পিএম স্বনিধি যোজনা চালু করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। এই যোজনায় স্ট্রিট ভেন্ডরদের এক বছরের জন্য ১০ হাজার, দেড় বছরের জন্য ২০ হাজার এবং তিন বছরের জন্য ৫০ হাজার টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ প্রদানের কথা। এজন্য আবেদন সংগ্রহ করতে প্রতিদিনই পুরসভার দারিদ্র দূরীকরণ বিভাগে যোগাযোগ করছেন ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আবেদনপত্র না পেয়ে তাঁরা নাকাল হয়ে বাড়ি ফিরছেন। ওই ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট যোজনা নিয়ে মোদি সরকারের প্রতিনিধিরা ভাষণ দিলেও সেটির সুবিধা মিলছে না। অন্যান্য প্রকল্পের মতো হয়তো এটিও বন্ধ করে দেওয়ার ছক কষছে কেন্দ্রীয় সরকার। 
শিলিগুড়ি পুরসভার দারিদ্র দূরীকরণ বিভাগ ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারের অধীনে। তিনি বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে সংশ্লিষ্ট যোজনা বন্ধ রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, বুঝতে পারছি না। তবে পুরসভা থেকে হকারদের পরিচয়পত্র প্রদানের কাজ চলছে। যাতে হকার বা ফুটপাত ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতে ব্যাঙ্কের সুবিধা পেতে কোনও সমস্যা না হয়। 
এদিকে, উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যনগরীতে সংশ্লিষ্ট যোজনায় ঋণ প্রদানের হারও হতাশাজনক। পুরসভা সূত্রে খবর, ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে আবেদনপত্র বিলিতে জোর দেওয়া হয়। সেবার আবেদনপত্র বিলি করা হয় প্রায় ১১ হাজার ৫০০টি। এরমধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার টাকা করে ব্যাঙ্ক ঋণ পেয়েছেন ৭ হাজার জন। এক বছরের মধ্যে ঋণ মিটিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে ঋণ পেয়েছেন মাত্র এক হাজার জন। তাঁরা ২০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। দেড় বছরের মধ্যে সেই ঋণ মেটানোর কথা। সবশেষে যোজনার তৃতীয় পর্যায়ে তিন বছরের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ পেয়েছেন মাত্র তিনজন ব্যবসায়ী। এক্ষত্রে আরও ৬০ জনের আবেদন ব্যাঙ্কে ঝুলছে বলে অভিযোগ। 
ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, ব্যাঙ্কগুলির অসহযোগিতাতেই সময়মতো ওই ঋণ মিলছে না। শিলিগুড়ির লিড ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রাজেশ কুমার অবশ্য বলেন, ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঠিক নয়। খুব সহজেই সংশ্লিষ্ট যোজনার ঋণ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে অনেকে প্রথম পর্যায়ের ঋণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করেননি। আবার বিভিন্ন কারণে অনেকের আবেদন বাতিল হয়েছে। ডেপুটি মেয়র বলেন, ঋণ মেটানোর ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের বোঝাব। পাশাপাশি ঋণ প্রদানের হার নিয়ে ব্যাঙ্কের সঙ্গেও কথা বলব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ