Bartaman Logo
৯ জুলাই, ২০২৬

প্রতি বছর কাশ্মীরে নষ্ট হচ্ছে ১৫০০ কোটি টাকার আপেল

আইজাজ আহমেদ ভাট। পেশা আপেল চাষ। সকালে বাগানে গিয়ে প্রথমেই নজর দেন মোবাইলে। একঝলকে দেখে নেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস।

প্রতি বছর কাশ্মীরে নষ্ট হচ্ছে ১৫০০ কোটি টাকার আপেল
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: আইজাজ আহমেদ ভাট। পেশা আপেল চাষ। সকালে বাগানে গিয়ে প্রথমেই নজর দেন মোবাইলে। একঝলকে দেখে নেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস। একে একে বৃষ্টির, ঝড় ও স্যাটেলাইট ওয়েদার ম্যাপ। তারপরই বাগান পরিচর্চা শুরু করেন ২৮ বছরের আইজাজ। এত কিছুর পরও মন ভালো নেই তাঁর মতো উপত্যকার শয়ে শয়ে ফল চাষিদের। কারণ মাথায় ঘাম পায়ে ফেলে আপেল উৎপাদনের পর জলে যাচ্ছে কয়েকশো কোটি টাকা। নীতি আয়োগের রিপোর্টেই উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বছরে পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন আপেল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু, কেন এই পরিস্থিতি? রোডম্যাপ ফর হর্টিকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন দ্য উফটি অব জম্মু ও কাশ্মীর অ্যাট ২০৪৭ শীর্ষক রিপোর্ট তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে নীতি আয়োগ। তারা জানিয়েছে, উপত্যকায় সবচেয়ে বেশি নষ্ট হচ্ছে আপেল ও বিভিন্ন সবজি। উৎপাদনের পর প্রায় ৪০ থেকে ৪৯ শতাংশ চেরিও ক্রেতার হাতে পৌঁছচ্ছে না। এরফলে লোকসানের বহর ৪৫ কোটির বেশি। কেন্দ্রীয় সংস্থার মতে, সমস্যা সাপ্লাই চেইনে। চাষের সময় নষ্ট হচেছ ৮ থেকে ১২ শতাংশ। ঝাড়াই-বাছাইয়ে বাদ পড়ছে আরও ৪ থেকে ৬ শতাংশ। পরিবহণ ও সংরক্ষণের সমস্যার জেরে ক্ষতি হচ্ছে ৫ থেকে ৮ শতাংশ। শেষে আরও ৩ থেকে ৫ শতাংশ বাদ যাচ্ছে মার্কেটিংয়ে খামতির জন্য। নীতি আয়োগ জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের হর্টিকালচার বড়োসড়ো চ্যালেঞ্জের মুখে। আবহাওয়ার খামেখেয়ালিপনা তো রয়েইছে।  সেইসঙ্গে সচেতনার অভাব, উদ্ভাবন, চাষের প্রক্রিয়া, মজুতের পরিকাঠামোয় খামতি ও বাজারের অস্থিরতার কারণে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ফল চাষিদের। উল্লিখিত কারণগুলির জন্য মোট উৎপাদনের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

Advertisement

এই সমস্যা সমাধানে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। তারা জানিয়েছে, ফল যাতে বেশিদিন তাজা থাকে, তারজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। উৎপাদন থেকে শুরু করে মজুত, মার্কেটিং ও সরবরাহে আরও আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করা দরকার।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ