সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আজ, শুক্রবার দোল উৎসব তথা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ৫৪০তম আবির্ভাব তিথি। সেই উপলক্ষ্যে নবদ্বীপ ও মায়াপুরে লক্ষ লক্ষ ভক্ত-পর্যটকের ভিড় উপচে পড়ছে।
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আজ, শুক্রবার দোল উৎসব তথা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ৫৪০তম আবির্ভাব তিথি। সেই উপলক্ষ্যে নবদ্বীপ ও মায়াপুরে লক্ষ লক্ষ ভক্ত-পর্যটকের ভিড় উপচে পড়ছে।
বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপে গৌরপূর্ণিমা তিথিতেই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আবির্ভূত হয়েছিলেন। গত শনিবার থেকে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির সহ বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুক্রবার ভোর থেকেই শুরু হয়ে যাবে মঙ্গল আরতি, ভাগবত পাঠ, কীর্তন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। মায়াপুরের ইসকন মন্দিরেও মহাসমারোহে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি উদ্যাপিত হবে।
দোলের দিন সকাল থেকে ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে পরানো হবে লাল চেলি ও উত্তরীয়। হাতে দেওয়া হবে রূপোর বাঁশি। মাথায় মোহন চূড়া, গলায় প্রজাপতি হার ও অর্দ্ধ মটর মালায় সুসজ্জিত হয়ে উঠবেন মহাপ্রভু। অলঙ্কারগুলি বছরের এই বিশেষ দিনেই পরানো হয়। এদিন ধামেশ্বরকে প্রায় ৫০০ভরি বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কারে সুসজ্জিত করা হবে।
গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত তথা বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সভাপতি সুদিন গোস্বামী বলেন, এদিন মধ্যাহ্নে প্রভুকে রূপোর থালা-বাটি-গ্লাসে প্রতিদিনের মতো পঞ্চব্যঞ্জন সহকারে ভোগ নিবেদন করা হবে। সন্ধ্যায় পঞ্চামৃত ও পঞ্চগব্য দ্বারা সনাতন মিশ্রের রাজরাজেশ্বর শালগ্রাম শিলাকে মহাপ্রভুর উদ্দেশ্যে অভিষেক করা হবে। বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির কোষাধ্যক্ষ তথা অন্যতম সেবায়েত প্রদীপকুমার গোস্বামী বলেন, অভিষেকের পরে সকল ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী দোলের পরদিন সমস্ত নিয়ম-নীতি মেনে প্রভুকে অন্নপ্রাশন দেওয়া হয়। ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরের শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সম্পাদক জয়ন্তকুমার গোস্বামী বলেন, সম্প্রতি প্রয়াগে মহাকুম্ভ মেলা হল। সেখানে প্রচুর মানুষের ঢল নামে। আমরা ভেবেছিলাম, সেকারণে হয়তো এবার দোলের সময় ভিড় কম হবে। বরং, নবদ্বীপ ধামে অন্যবারের থেকে এবারে বেশি ভক্ত সমাগম হয়েছে।
শুধু ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরই নয়, আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে জন্মস্থান মন্দির, শ্রীবাসঅঙ্গন, সমাজবাড়ি, বলদেব জীউ মন্দির, শ্রীশ্রীরাধামদনমোহন মন্দির, প্রাচীন মায়াপুর রাধামদনগোপাল মন্দির, সরকার পাড়ার গৌরপ্রিয়া সেবাকুঞ্জ, শ্রীশ্রীশ্যামসুন্দর মন্দির শ্রীকুঞ্জ সহ বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে দিনটি মহাসমারোহে উদ্যাপিত হবে। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান মন্দিরের কয়েক হাজার ভক্ত দোলের দিন বিকেলে নামসংকীর্তন শোভাযাত্রা সহকারে গঙ্গাবারি আনবেন। সন্ধ্যায় তা দিয়ে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ও ধামেশ্বরের অভিষেক হবে। এরপর জন্মলীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে।
গৌরাঙ্গ সেতুতে বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহার উদ্যোগে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর বিশেষ পূজা, ভোগরাগ ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মহাপ্রভু পূজা ও পাঁচদিনের এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, যাত্রীদের থাকার জন্য পাঁচটি অস্থায়ী শিবির করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পাঁচটি স্বাস্থ্য শিবির করা হয়েছে। পুলিস-প্রশাসনের পক্ষ থেকে তীর্থযাত্রীদের জন্য সিসিটিভির মাধ্যমে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দোলের আগে থেকেই নদীবক্ষে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের নদীয়া ক্যুইক রেসপন্স টিম।