নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিকেল পাঁচটা। বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট থেকে মৌলালি যাওয়ার জন্য অ্যাপ ক্যাব বুক করার চেষ্টা করছিলেন মদন ঘোষ। অ্যাপে দেখলেন, কিলোমিটার প্রতি ভাড়া দেখাচ্ছে ৩৩ টাকার কাছাকাছি। তিনি বলছিলেন, ‘নতুন ব্যবস্থা চালু হলে এবার থেকে ভাড়া আরও বেড়ে যাবে। এখন দেড়শো টাকার মতো ভাড়া দেখাচ্ছে। তবে গাড়ি বুক করলে চালক অতিরিক্ত ভাড়া চাইবে।’ মদনবাবুর মতো একই অভিযোগ বেশিরভাগ শহরবাসীর। অ্যাপ ক্যাব বা বাইকের ভাড়া দিতে গিয়েই নাকি তাঁদের পকেট খালি। তার উপর এবার ভাড়া আরও বাড়ছে। কেন্দ্রের সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, দিনের ব্যস্ত সময়ে অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলি ‘বেস ফেয়ার’-এর দ্বিগুণ ভাড়া ধার্য করতে পারে। ফাঁকা সময়ের ভাড়া কমপক্ষে ‘বেস ফেয়ার’-এর অর্ধেক রাখতেই হবে। এতেই মাথায় হাত পড়েছে মধ্যবিত্তর।
অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া বৃদ্ধির সিঁদুরে মেঘ দেখছেন যাত্রীরা। বাড়ির সন্তান কিংবা বয়স্ককে নিরাপদে বাড়ি ফেরানো হোক বা গন্তব্যে পৌঁছনো, মধ্যবিত্তর ভরসা এখন এই অ্যাপ ক্যাব। সেক্ষেত্রে রাত হোক বা ভোরবেলা চটজলদি, নিরাপদে গন্তব্যে যাওয়ার অ্যাপ ক্যাবের ভাড়াও যদি আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, আর কোথায় যাবে মধ্যবিত্ত! আবার উল্টো দিকে চালকরা মনে করছেন, এতে খুব একটা লাভ হবে না। কেন? চালকদের বক্তব্য, বিভিন্ন সংস্থার বেস ফেয়ার নানা ধরনের। যাত্রীসাথীতে ৩০ টাকা হলেও কলকাতা শহরে বেসরকারি সংস্থায় তা ১৮ টাকা মতো থাকে। তাঁদের আরও বক্তব্য, ফাঁকা সময় এসি ক্যাবের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১০-১২ টাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। সিটু অনুমোদিত অ্যাপ ক্যাব চালক সংগঠনের দাবি, নন এসিতে ২৫ ও এসিতে ৩০ টাকা প্রতি কিলোমিটার ভাড়া রাখতেই হবে। আর বাইকে তা ১২ টাকা প্রতি কিলোমিটার করতে হবে।
যদিও শহরে অ্যাপ ক্যাব পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের শেষ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের অভিযোগ, যা ভাড়া দেখায় চালকরা তার থেকে বেশি টাকা চেয়ে বসেন। পছন্দমতো গন্তব্য না হলেই নাকচ করে দেন। এমনকী যাত্রী তোলার জায়গা যদি একটু ভিতরে হয়, তবেও চালকদের আপত্তি থাকে। যদিও চালকের ব্যতিক্রম রয়েছে। কিন্তু তিক্ত অভিজ্ঞতায় জেরবার সাধারণ মানুষ। যাদবপুরের বাসিন্দা কিঙ্কর দত্ত বলছিলেন, আমাদের তো আর নিজেদের গাড়ি নেই। তাই কোথাও পরিবার নিয়ে যেতে হলে কিংবা ডাক্তার দেখানোর জন্য বেরলে অ্যাপ ক্যাব বুক করি। ভাড়া তো অত্যধিক বেড়ে গিয়েছে। তার উপর কখনও চালকদের কাছ থেকে খারাপ ব্যবহার জোটে। চালকদের পাল্টা বক্তব্য, যাত্রীদের ব্যবহারও সবসময় ভালো থাকে না। রাতে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় অনেকে গাড়িতে ওঠেন। এক প্রকার জুলুমবাজি শুরু করে দেন চালকদের উপর। এমন অবস্থায় সরকারিভাবে বাড়ছে অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া। চাপ বাড়বে যাত্রীদেরই।