নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহে অ্যাপে নজরদারি। ডাস্টবিনে কিউআর কোড। আবর্জনা সংগ্রহের গাড়িতে জিপিএস। এককথায়, স্মার্ট সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প। দু’মাস আগে ময়নাগুড়িতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছিল। তা সফল হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে চালু হল গোটা জলপাইগুড়ি জেলায়। জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সবটা ঠিকমতো চলছে কি না, তা জানার উপায় ছিল না। স্মার্ট কঠিন বর্জ্য প্রকল্পে বাড়ি থেকে ঠিকমতো বর্জ্য সংগ্রহ হচ্ছে কি না কিংবা গাড়িগুলি সব জায়গায় যাচ্ছে কি না, সেব্যাপারে সরাসরি নজরদারি চালানো যাবে।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) রৌণক আগরওয়াল বলেন, ১০টি করে বাড়ি পিছু পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলার জন্য দু’টি করে বড় ডাস্টবিন দেওয়া হচ্ছে। সেগুলির গায়ে কিউআর কোড থাকবে। বর্জ্য সংগ্রাহক যখন সেখানে যাবেন, তিনি নিজের মোবাইলে ওই কোড স্ক্যান করবেন। এতে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত হবে। এরপর ওই ডাস্টবিন থেকে কত পরিমাণ বর্জ্য তিনি সংগ্রহ করলেন, কী ধরনের বর্জ্য নিলেন, তারও কিছু তথ্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপে আপলোড করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ওই তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে চলে আসবে।
অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহের জন্য তিনটি করে গাড়ি দেওয়া হয়েছে। সেগুলিতে জিপিএস বসানো হচ্ছে। রুট ম্যাপ করা থাকছে। ফলে বর্জ্য সংগ্রহের গাড়িগুলি প্রতিদিন একই রুটে যাচ্ছে, নাকি গোটা পঞ্চায়েতে ঘুরছে, জিপিএস দিয়ে সেটাও জানা যাবে।
জেলা প্রশাসনের তরফে এদিন স্যানিটেশন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বর্জ্য সংগ্রাহক, বর্জ্য সংগ্রহের গাড়িচালক, সুপার ভাইজারদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। কাজে দক্ষতার জন্য পুরস্কৃত হন নির্মাণ সহায়ক, বিডিও এবং মহকুমা শাসকরা। সেরা পঞ্চায়েত প্রধানের পুরস্কার পান ময়নাগুড়ির খাগরাবাড়ি-২ পঞ্চায়েতের প্রধান বাবলু রায়। পুরস্কার হিসেবে তাঁদের হাতেও অর্থ তুলে দেওয়া হয়।