Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বোনের প্রেমিকের হাতে খুন অপর্ণা, বাধা দিতে গিয়েই নিশানা হন মণীশ, বৈদ্যবাটিতে যুগলহত্যার কিনারা, গ্রেপ্তার আরও এক

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বৈদ্যবাটিতে যুগল খুনের তদন্তের কিনারা করে ফেলল শ্রীরামপুর থানার পুলিস।

বোনের প্রেমিকের হাতে খুন অপর্ণা, বাধা দিতে গিয়েই নিশানা হন মণীশ, বৈদ্যবাটিতে যুগলহত্যার কিনারা, গ্রেপ্তার আরও এক
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বৈদ্যবাটিতে যুগল খুনের তদন্তের কিনারা করে ফেলল শ্রীরামপুর থানার পুলিস। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাতেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। ওই গ্রেপ্তারির সূত্রেই স্পষ্ট হয় যে, খুনই হয়েছেন লিভ-ইনে থাকা যুগল। গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা থেকে পাকড়াও করা হয় আরও এক অভিযুক্তকে। তারপরই প্রকাশ্যে আসে যুগল খুনের আসল রহস্য। এই জোড়াখুনের পিছনে আর কেউ নয়, রয়েছে নিহত অপর্ণা মাঝির বোনের প্রেমিক অর্জুন পাশোয়ান। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাতের সময় বাধা দিতে গেলে রক্তাক্ত হন লিভ-ইন সঙ্গী মণীশ ভাদুড়ি। একদা অর্জুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও অপর্ণার বোন রিম্পা দুবে সম্প্রতি তার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন। বোনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দিদি। দিনকয়েক আগে বৈদ্যবাটিতে এসেছিল ওই প্রেমিক। প্রেমে বাধা দেওয়ায় অপর্ণাকে হুমকিও দিয়েছিল সে। তারপরেই খুনের ছক কষে অর্জুন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতে হাওড়ার জগদীশপুরের চামরাইলের বাসিন্দা অর্জুনকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, এই জোড়াখুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত তারই জামাইবাবু মহেশতলার বাসিন্দা মহম্মদ নাসিরুদ্দিন। গভীর রাতে তাকেও পাকড়াও করা হয়। ধৃত দু’জনকেই শুক্রবার শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করেছিল পুলিস। শ্রীরামপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণেই ওই যুগলকে খুন করা হয়েছে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে বৈদ্যবাটির সীতারাম বাগানে একটি ভাড়াবাড়ি থেকে মণীশ ভাদুড়ি (৩৫) ও অপর্ণা মাঝির (৩২) রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। অপর্ণা বিবাহিত হলেও গত পাঁচ বছর ধরে মণীশের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে পুলিসের ধারণা ছিল, পারস্পরিক বিবাদের জেরেই খুনোখুনি হয়েছে। কিন্তু পুলিসকে সূত্র দিয়ে তদন্তে সহায়তা করেছেন অপর্ণার বোন ও মা। তারপরই পুলিসি তদন্ত ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
জানা গিয়েছে, একটি পানশালায় ভদ্রেশ্বরের বাসিন্দা রিম্পার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল গাড়িচালক অর্জুনের। রিম্পা বিবাহিতা হলেও ক্রমে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। দু’জনে কাজের খোঁজে একসঙ্গে গিয়েছিল তেলেঙ্গানাতে। কিন্তু সেখান থেকে ফেরার পরেই রিম্পা দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন অর্জুনের সঙ্গে। অর্জুনও নাছোড়বান্দা। সে রিম্পাকে বিরক্ত করতে শুরু করলে অপর্ণা তাতে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি অর্জুনকে বলেছিলেন, তুমি বোনকে বিরক্ত করবে না, আমি ওর অন্যত্র বিয়ে দেব। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়ে অর্জুন দিনকয়েক আগে অপর্ণার বৈদ্যবাটির বাড়িতে এসে শাসালে তাকে চড়থাপ্পড় মেরে তিনি তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ। পুলিসের দাবি, একদিকে প্রেমিকা হাতছাড়া হওয়া এবং অন্যদিকে অপর্ণার অপমান— এই দুই আক্রোশ থেকেই খুনের পরিকল্পনা করেছিল অর্জুন। বুধবার সন্ধ্যায় সে জামাইবাবুকে সঙ্গে ছুরি হাতে অপর্ণার ভাড়াবাড়ির কাছে লুকিয়েছিল। গভীর রাতে দু’জনে ঘরে ঢুকে প্রথমে অপর্ণার উপরে হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে খুন হতে হয় মণীশকেও। কাজ সেরে এরপর দ্রুত এলাকা ছাড়ে অর্জুন ও নাসিরুদ্দিন।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ