নয়াদিল্লি: দিল্লিতে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ)। ২৭ বছর পর কুর্সি দখল করেছে বিজেপি। ক্ষমতা বদলের এই আবহেই আপ জমানায় দিল্লির স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বেহাল দশার অভিযোগে শুক্রবার বিধানসভায় পেশ হল ক্যাগ রিপোর্ট। আর এই রিপোর্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে আপ-বিজেপি তরজা। ক্যাগের এই রিপোর্টে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, কোভিড কালে কেন্দ্রের দেওয়া টাকা সঠিকভাবে ব্যবহারই করেনি কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার। দিল্লির চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিতে কর্মী ও বেডের ভয়াবহ অভাব রয়েছে। গুরুতর অসুখের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের ডেট পেতে রোগীদের ছ’মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এমনকী কেজরিওয়ালের সাধের মহল্লা ক্লিনিকগুলির অবস্থাও অতি বেহাল। বহু ক্লিনিকে শৌচাগার পর্যন্ত নেই।
Advertisement
এদিন দিল্লি বিধানসভায় পেশ হয়েছে সাত পাতার এই ক্যাগ রিপোর্ট। সেখানে দাবি, কোভিড মহামারীর সময় কেন্দ্র দিল্লির কেজরিওয়াল সরকারকে ৭৮৭.৯১ কোটি টাকা দিয়েছিল। তার মধ্যে খরচ হয়েছে ৫৮২.৮৪ কোটি টাকা। কর্মীর ব্যাপক অভাব সত্ত্বেও নিয়োগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাকি টাকা খরচই করে উঠতে পারেনি। ওষুধ ও মেডিক্যাল সরঞ্জামের জন্য দেওয়া হয়েছিল অতিরিক্ত ১১৯.৯৫ কোটি টাকা। তার মধ্যে খরচ করা হয়েছে ৮৩.১৪ কোটি টাকা। পিপিই সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাই হয়নি। ক্যাগ রিপোর্ট অভিযোগ, টাকা বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালগুলিতে বেডের সংখ্যা বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে পূর্বতন আপ সরকার। ২০১৭-১৭ থেকে ২০২০-২১ সাল পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার বেড বাড়ানোর টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। যদিও বেডের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১ হাজার ৩৫৭টি। শুধু বেড নয়, পাল্লা দিয়ে তৈরি হয় কর্মীর অভাব। পাঁচটি হাসপাতালে ২ হাজারের বেশি কর্মীর অভাব। এর মধ্যেই রয়েছে লোকনায়ক হাসপাতাল ও চাচা নেহরু বাল চিকিৎসালয়। এছাড়া জনকপুরী ও রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নেই ৫০ শতাংশ চিকিৎসক ও ৭৩ শতাংশ নার্সিং স্টাফ। লোকনায়ক হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে নেই কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। দিল্লির ২৭টি হাসপাতালের মধ্যে ১৪টিতে নেই আইসিইউ, ১৬টিতে নেই ব্লাডব্যাঙ্ক, ১২টিতে নেই অ্যাম্বুলেন্স। করুণ দশা কেজরিওয়ালের সাধের মহল্লা ক্লিনিকগুলিতেও। ক্যাগ রিপোর্টে দাবি, ২১টি ক্লিনিকে নেই বাথরুম, ১৫টিতে নেই কোনও পাওয়ার ব্যাক-আপ, ১২টিতে বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই।



