নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া: কারও উস্কানিতে অযোধ্যা পাহাড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে মোকাবিলা করবে পুলিস। সোমবার পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে হুল দিবস উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন পুরুলিয়া জেলার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার যথাযথ মর্যাদায় পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলাজুড়ে নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয় হুল দিবস। পুরুলিয়ায় আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের আয়োজনে জেলাস্তরের মূল অনুষ্ঠানটি হয় বলরামপুরে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত, সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঘমুণ্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাত, অতিরিক্ত জেলা শাসক(উন্নয়ন) সুদীপ পাল, বলরামপুরের বিডিও সৌগত চৌধুরী প্রমুখ। এদিন অযোধ্যা পাহাড়ের একাধিক জায়গায় দিনটি বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। অযোধ্যার রাঙা ফুটবল মাঠে সিধো কানুর পূর্ণবায়াব একটি মূর্তির উন্মোচন করে সিধু-কানু বিরসা সমন্বয় কমিটি।
আদিবাসী অধ্যুষিত মানবাজার মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় দিনটি পালিত হয়। মানবাজার-২ ব্লকের বুরুডি মোড়ে সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই সেনানীর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন বান্দোয়ান বিধানসভার বিধায়ক রাজীব লোচন সোরেন। এদিন ময়ূর পাহাড়ের পাদদেশে আদিবাসী উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে এবং জেলা পুলিসের সহযোগিতায় সিধো কানুর পূর্ণবায়াব মূর্তির উন্মোচন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিস সুপার, মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, স্থানীয় বিধায়ক সহ বিশিষ্টজনেরা।
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই এই মূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করেই আদিবাসী উন্নয়ন কমিটির সঙ্গে পাহাড়ের কয়েকটি আদিবাসী সংগঠনের মধ্যে ঝামেলা বেঁধেছিল। ঘটনায় কয়েকজন আদিবাসী নেতাকে পুলিস আটক করলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সেইসব নেতাকে নিঃশর্তে জামিন দেওয়া হয়। এদিন সেই মূর্তি উন্মোচনে এসে অযোধ্যা পাহাড় আদিবাসী উন্নয়ন কমিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন পুলিস সুপার। তাঁর মতে, এই সংগঠনটিই আদিবাসীদের সত্যিকারের প্রতিনিধি। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সংগঠনের সদস্যরা আদিবাসীদের চোখ এবং কানের মতো কাজ করছে। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, একসময় মাওবাদীরা আদিবাসীদের সরলতার সুযোগ নিয়েছিল। তাঁদের ব্যবহার করেছে। আদিবাসীদের রক্তে হোলি খেলেছে অনেক স্বার্থান্বেষী। ফের নতুন করে যারা আদিবাসীদের সরলতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে, এদিন তাদের সতর্ক করে দেন পুলিস সুপার। এদিন বাঁকুড়াতেও যথোচিত মর্যাদায় হুল দিবস পালিত হয়। দিনটি উপলক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন জায়গায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এদিন দুপুরে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পরিষদ সভাধিপতি অনুসূয়া রায়, জেলাশাসক সিয়াদ এন, পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাঁকুড়া শহরের পাশাপাশি জঙ্গলমহলেও দিনটি পালন করা হয়। খাতড়া মহকুমার একাধিক ব্লকে এই উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। পুঞ্চা ব্লকে ‘হুল দিবস’ উদযাপন। -নিজস্ব চিত্র