শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: গোটা মাঠে মেনিকুইন সাজানো। টিনের মানবপ্রাচীর যেন অদৃশ্য ভিনিসিয়াস, এনড্রিক কিংবা ব্রুনো গুইমারেস। আঠার মতো মার্কিং করছেন আনোয়াররা। পান থেকে চুন খসলেই সুর চড়ছে খালিদের। ফাঁকা যুবভারতীতে গমগমে সেই প্রতিধ্বনি। টুকরো অনুশীলনেই ব্লু টাইগার্সের স্ট্র্যাটেজি স্পষ্ট। হেভিওয়েট ব্রাজিলের বিরুদ্ধে রক্ষণে তালা লাগাতে চান খালিদ। তবে শুরু থেকেই আল্ট্রা ডিফেন্সিভ ফর্মেশনে চাপ ধরে রাখা মুশকিল। তাই ফ্রি স্পেসে এডমুন্ড, রায়ানদের টাট্টু ঘোড়ার মতো ছোটাতে চান খালিদ জামিল।
বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের র্যাংকিং ৬। ভারত সেখানে ১৩৮। শক্তির বিচারে তুলনা টানাই অর্থহীন। তবে ফুটবলাররা চোয়ালচাপা লড়াই করতে তৈরি। প্রতিরোধের বারুদ তৈরি। সেখানে দেশলাই কাঠি জ্বেলে দিতে চান খালিদ। এনড্রিক, এস্তেভাও, ভিনিসিয়াসের ত্রিফলাকে সামলানো বেশ কঠিন। দুরন্ত গতির সঙ্গে এঁটে ওঠা সমস্যার। সেক্ষেত্রে শুরুতে ডাবল লেয়ার ডিফেন্স সাজাচ্ছেন মুম্বইকর কোচ। নিজেদের বক্সের আশেপাশে ফ্লানেলের মতো জাল বিছানোর পরিকল্পনা। ব্রাজিল পাস খেলুক মাঝমাঠে। তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বক্সে কোনো জায়গা দেওয়া চলবে না। পায়ের জঙ্গলে বিপক্ষকে হতাশ করে দিতে চান খালিদ। অতীতে আই লিগে মুম্বই এফসি’র মতো দল সামলেছেন তিনি। জানেন, কীভাবে পয়েন্ট কাড়তে হয়। মুম্বইয়ের কুপারেজে বড়ো দলের যম ছিল খালিদ ব্রিগেড। তাবড় স্ট্রাইকারকেও অকেজো করেছেন তিনি। এবারও তূণ থেকে সেই একই তির তুলে আনতে চান খালিদ। রক্ষণে অভিষেক টেকচাম, বিজয় ভার্গিস, আনোয়ারের সঙ্গী হতে পারেন আকাশ মিশ্র। ডাবল পিভট হিসাবে আপুইয়া ও রিকি সাবং পানামার বিরুদ্ধে নজর কেড়েছিলেন। এছাড়া মনবীর, বিক্রমপ্রতাপও পালা করে ট্র্যাক ব্যাক করবেন। অনিরুদ্ধ থাপা, রহিম আলিকেও তৈরি রাখা হচ্ছে। সিঙ্গল স্ট্রাইকারের ভূমিকায় রায়ান উইলিয়ামসই থিঙ্কট্যাঙ্কের পছন্দ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রথম ২০ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুর ঝড় সামাল দিতে পারলে অক্সিজেন পাবে ভারত।