সংবাদদাতা, বোলপুর: জেলায় ফের আক্রান্ত হলেন অনুব্রত অনুগামীরা। মারধর ছাড়ও নানুরে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমাবাজির ঘটনা ঘটল। শুক্রবার বিকালে নানুরের থুপসারা পঞ্চায়েতের সদস্য হাসিনা বিবির স্বামী শেখ রফিককে বেধড়ক মারধর করা হয়। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জামারুল শেখের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি করা হয় বলেও অভিযোগ। যাবতীয় অভিযোগের তির কাজল শেখ অনুগামীদের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজল। তবে এই ঘটনায় পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, খবর দিলেও পুলিস অনেক দেরিতে আসে। এমনকী, ঘটনাস্থলে বোমার মসলা, সুতলি প্রভৃতি ঝাঁট দিয়ে ও জলে ধুয়ে তথ্য-প্রমাণ লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে পুলিসের বিরুদ্ধে। পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের জন্যই ঝাঁট দেওয়া হয়েছে।
নানুরে সাম্প্রতিককালে বারবার অনুব্রত অনুগামীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। গত ২৯ মে কেষ্ট অনুগামী শেখ নুর আলম ওরফে হীরাকে মেরে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে থুপসারা পঞ্চায়েতের হারমুড় গ্রামের কেষ্ট অনুগামী ডাবলু শেখকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর, গত ২২ জুন নানুর বিধানসভার বাহিরী-পাঁচশোয়া পঞ্চায়েতের আমিনপুরের অনুব্রত অনুগামী স্বপন আস্তা ও সুকেশ মালের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। প্রতিক্ষেত্রেই অভিযোগের তির কাজল অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এরপর শুক্রবার ফের একই ঘটনা ঘটল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, থুপসারা পঞ্চায়েতের রানিবাজার গ্রামে ওই পঞ্চায়েতের সদস্য হাসিনা বিবির স্বামী শেখ রফিকের ওপর দুষ্কৃতীরা চড়াও হয়। এছাড়া, সেই রাতেই থুপসারা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জামারুল শেখের বাড়িতে ব্যাপক বোমাবাজি করা হয়। জামরুলের অভিযোগ, এই ঘটনায় নানুর থানার ওসি, বোলপুরের এসডিপিওকে বারবার ফোন করা হলেও পুলিস অনেক দেরিতে আসে। পাশাপাশি প্রমাণ লোপাটের জন্য ঝাঁট দিয়ে বোমার সুতলি, বারুদ প্রভৃতি ঝেঁটিয়ে পরিষ্কার ও জল দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, অনুব্রত অনুগামী হওয়ার কারণে বোমাবাজি করে আমাকে ভয় দেখানো হচ্ছে। বোমার আওয়াজে আমার বউদি আনারকলি বিবি অজ্ঞান হয়ে যান।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নানুরের তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের পূর্ত দপ্তরের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল কেরিম খান। যিনি ওই এলাকায় কাজলের বিরোধী গোষ্ঠী বলে পরিচিত। তিনি বলেন দিনের পর দিন অনুব্রত অনুগামীরা মার খাচ্ছেন আর পুলিস পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। এমনকী, এখন তথ্য প্রমাণ লোপাটেও নেমে পড়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পুলিস নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে বৃহত্তর আন্দোলন করব। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি। কাজল শেখ বলেন, অবৈধ বালি কারবারিরা নিজেদের মধ্যে এই ঝামেলা ও বোমাবাজি ঘটিয়েছে। এতে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। পুলিস তদন্ত করলেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।