Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেষ্ট-কাজলকে বার্তা তৃণমূলের

একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। একজন অপরজনের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করবেন না। দু’জনেই নিজ নিজ এলাকার দিকে নজর রাখুন— শনিবার দুপুরে কলকাতায় ডেকে পাঠিয়ে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখকে স্পষ্ট ভাষায় এই নির্দেশ দিয়ে দেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি।

কেষ্ট-কাজলকে বার্তা তৃণমূলের
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। একজন অপরজনের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করবেন না। দু’জনেই নিজ নিজ এলাকার দিকে নজর রাখুন— শনিবার দুপুরে কলকাতায় ডেকে পাঠিয়ে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখকে স্পষ্ট ভাষায় এই নির্দেশ দিয়ে দেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হল, বৈঠক শেষের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বীরভূম জেলা নেতাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তাকে কেন্দ্র করে ফের শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আগামী ২১ তারিখ কোর কমিটির এবং ২৫ তারিখ জেলা কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওই বার্তা পৌঁছে দেন আশিসবাবু। কিন্তু আবার পুরনো আরেকটি গ্রুপে ওই ২৫ তারিখই দলের মিটিংয়ের কথা ঘোষণা করেন অনুব্রত। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তীব্র চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। আশিসবাবু ফোন করে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।

Advertisement

এদিন ভবানীপুরে নিজের দলীয় কার্যালয় একটি বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। বৈঠকটা ছিল আসন্ন একুশে জুলাই শহিদ সমাবেশের আয়োজন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। এই বৈঠকের ফাঁকে বীরভূম জেলার সংগঠন নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করেন সুব্রতবাবু। অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখকে এক টেবিলে বসিয়ে আলোচনা করেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস। সাম্প্রতিক সময়ে অনুব্রত এবং কাজলের পরস্পর বিরোধী মন্তব্য দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। তাছাড়া অনুব্রতর অডিও টেপ কান্ডের পর তৃণমূলকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল। সেদিক থেকে এদিনের বৈঠক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় সূত্রে খবর, অনুব্রত এবং কাজলকে কড়া কথা তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের তরফে শুনিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলে দেওয়া হয়েছে, আপনারা এমন কিছু মন্তব্য করছেন, যার জন্য প্রতিদিন দলকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। এটা আর বরদাস্ত নয়। দুজনেই নিজ নিজ এলাকার দিকে নজর রাখুন। বাইরে এলাকায় যাবেন না। ঘটনাচক্র, অনুব্রত থাকেন বোলপুরে। আর কাজল নানুরে। বীরভূম জেলার তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে দায়িত্বভার বন্টন করে দেওয়া হয়েছে। আশিস ন্দ্যোপাধ্যায় দেখবেন রামপুরহাট, হাসন এলাকা। বিধায়ক অভিজিৎ  সিংহ (রানা) দেখবেন লাভপুর, সাঁইথিয়া। বিকাশ রায়চৌধুরী দেখবেন দুবরাজপুর ও সিউড়ি। খয়রাশোল সুদীপ্ত ঘোষের নজরে থাকবে। চন্দ্রনাথ সিংহ দেখবেন বোলপুর, মুরারই ও নলহাটি। কাজল শেখ দেখবেন নানুর ও কেতুগ্রাম। আর ময়ূরেশ্বর যৌথভাবে দেখবেন অভিজিৎ এবং চন্দ্রনাথ। সূত্রের খবর, আউসগ্রাম এবং মঙ্গলকোট দেখার জন্য রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অনুব্রত দরবার করেছিলেন। সেটা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ