নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ভাইরাল একটা অডিও ক্লিপ। বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদার এবং তাঁর মা-স্ত্রীর নামে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ। পাশাপাশি চুলের মুঠি ধরে পেটানোর হুমকি! বিতর্কে নাম জড়াল বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর। ওই অডিও ক্লিপে আইসিকে গালিগালাজ পর্বে রাজ্য পুলিসের ডিজি রাজীব কুমারের নাম উল্লেখ করে টেলিফোন করার ‘নাটক’ও করা হয়েছে। অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান। তবে ওই অডিও ক্লিপে গালিগালাজ দেওয়া কণ্ঠস্বরটি যে কেষ্টরই, তা প্রমাণিত হয়েছে তৃণমূলের দলীয় তদন্তে। বিষয়টি কানে যায় তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রচণ্ড অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এরপরই দলের তরফে শুক্রবার চার ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে কেষ্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় শোকজ এবং কড়া ব্যবস্থা— তাও দলের তরফে সমাজমাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বিকেল সোয়া তিনটে নাগাদ দুঃখ প্রকাশ করে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন কেষ্ট। লিখিত ক্ষমা চান দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছেও।
তবে তার আগেই আইসি’র অভিযোগের ভিত্তিতে বীরভূম জেলা পুলিস যৌন হেনস্তা, কর্মরত সরকারি কর্মচারীকে ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৫, ১৩২, ২২৪ ও ৩৫১ ধারায় কেষ্ট মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা শুরু করেছে। এর মধ্যে দু’টি জামিন অযোগ্য ধারাও রয়েছে। আজ, শনিবার বেলা ১১টায় বোলপুর থানায় তলব করা হয়েছে বীরভূম জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতিকে। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে দেহরক্ষীও। জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ সিং বলেন, বোলপুর আইসি’র অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। এই ঘটনায় যতটা পারা যায়, কড়া আইনি ব্যবস্থা নেব। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আইসি’র মোবাইল থেকে কীভাবে কল রেকর্ড বাইরে ছড়িয়ে পড়ল, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গোরু পাচার মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন কেষ্ট মণ্ডল। এই পর্বে বীরভূম জেলায় কোর কমিটি গঠন করে দল পরিচালনার নিদান দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর সেই নিদান ফলপ্রসূ হয়। কেষ্ট-বিহীন জেলায় পঞ্চায়েত এবং লোকসভায় খুব ভালো ফল করে জোড়াফুল শিবির। জেল থেকে ফিরে এলেও, অনুব্রতবাবুর পুরনো কর্তৃত্ব অনেকটাই ‘খর্ব’ হয়। জেলা সভাপতি থাকাকালীন মহকুমা ভিত্তিক মহামিছিলের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জেলযাত্রার কারণে ভেস্তে যায় সেই কর্মসূচি। দু’দিন আগে সেই কর্মসূচি অনুযায়ী বোলপুরে মহামিছিলের ডাক দেন কেষ্ট। ভালোই জমায়েত হয়েছিল সেই মিছিলে। যে অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে, সেখানে শোনা যাচ্ছে, সেই জমায়েতকে মাত্র ১২-১৩ হাজারের কেন বলেছেন, সেই অভিযোগ সামনে এনে বোলপুরের আইসি এবং তাঁর মা ও স্ত্রীকে অশ্রাব্য, কুরুচিকর (ছাপার অযোগ্য) ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। রাজ্য পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বোলপুরের আইসি লিটন হালদার সম্প্রতি বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছেন। পাকড়াও করা হয়েছে বালি বোঝাই ট্রাক-ডাম্পার। এতে বেজায় ক্ষুব্ধ প্রভাবশালী একটা অংশ। এই পদক্ষেপ ঠেকাতে নানা মহলে দরবারও করেছেন তাঁরা। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। এই ঘটনার সঙ্গে আইসির প্রতি ‘আক্রোশে’র সম্পর্ক আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিস।