নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মুর্শিদাবাদ লাগোয়া নদীয়ার কালীগঞ্জ ব্লক। আর সেই কালীগঞ্জ ব্লকের পলাশীতেই ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে রবিবার মিছিল ডাকা হয়েছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও বেলডাঙা থেকে লোক মিছিলে ঢুকে অশান্তি পাকাতে পারে। এমনিতেই নদীয়ার পার্শ্ববর্তী জেলা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর ভয় ছিল। তাই, শেষ মুহূর্তেই এই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পুলিস প্রশাসনের তরফ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই অনুরোধে সাড়া দেন সংখ্যালঘু মানুষরা। সেইমতো কালীগঞ্জের পলাশীতে রবিবার আর কোনও মিছিল হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে এই কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।
অবৈধ জমায়েত রুখতে রবিবার গোটা এলাকাজুড়ে উপস্থিত ছিল বিশাল পুলিস বাহিনী। শনিবার রাতে কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে ভিডিও পোস্ট করে সকলকে অশান্তি থেকে দূরে থাকার বার্তা দেন।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, পর্যাপ্ত পুলিস ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল। অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটেনি। আমরাও আগের দিন ওঁদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে, ওঁরাও এগিয়ে এসেছেন। প্রসঙ্গত, ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তাল মুর্শিদাবাদ। পুলিসের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ লাগছে বিক্ষোভকারীদের। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিস ও বিএসএফের গাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। হিংসার কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর হয়েছে রাজ্য পুলিসও। মুর্শিদাবাদ লাগোয়া জেলা হওয়ায় স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছে নদীয়াও। এই অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই কালীগঞ্জ ব্লকের পলাশীতে ওয়াকফ আইন বিরোধী সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। রবিবার পলাশীর ফুলবাগান মোড় থেকে সেই মিছিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। পলাশী ওয়াকফ ঐক্য মঞ্চের ব্যানারে সেই মিছিল ও পথসভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু, শনিবার রাতে শেষ মুহূর্তে সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করা হয়। পুলিস প্রশাসনের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তাতেই এগিয়ে আসেন এই মঞ্চের সংখ্যালঘু মানুষরা। এই মঞ্চের তরফে ওসমান গনি খান বলেন, প্রশাসনের পরামর্শে এবং সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সকলের কাছে অনুরোধ, আমাদের উপর ভরসা রাখুন। উত্তেজিত হবেন না। যদিও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিসের তরফ থেকে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এদিন পলাশী এলাকায় বিভিন্ন থানার ১০জন ওসি, ৩৮জন এসআই ও ৩০০-র বেশি পুলিস ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল।