সংবাদদাতা, বোলপুর: নকল সোনার কয়েনের কারবারিদের বোমাবাজি ও বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে পুলিস সক্রিয় হয়েছে। গত ২০ জুন কয়েন কারবারিদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দুই দুষ্কৃতীর মৃত্যুর পর থেকেই লাভপুরের হাতিয়া গ্রামে লাগাতার তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছে পুলিস। ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি শনিবার রাতে বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়ালের নেতৃত্বে বড় অভিযান চালায় লাভপুর থানার পুলিস। অভিযান শুরু হতেই এলাকায় সমাজবিরোধীরা নির্দিষ্ট দূরত্বে জমায়েত শুরু করে। তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করতেই পুলিস দু’রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। সমাজবিরোধীদের এহেন দৌরাত্ম্যের পিছনে রাজনৈতিক নেতাদের মদত রয়েছে বলে মনে করছে পুলিসের একাংশ। তবে, সমাজবিরোধী ও নকল সোনার কয়েন কারবারিদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিস সুপার। প্রসঙ্গত, গত ২০জুন দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ও আধিপত্যের লড়াই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের রূপ নেয়। বোমা তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে সাবের আলি ও শেখ পিয়ার আলি ওরফে আলমগির নামের দুই দুষ্কৃতীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সাইফুদ্দিন শাহ, রমজান শেখ ও মোঃ কাইফ নামের তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে কাইফ হাতিয়া পঞ্চায়েত সদস্য শেখ আফসারের ছেলে বলে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণে জখম কাইফ লুকিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে পুলিসের হাতে ধরা পড়ে। তাদের তিনজনকে জেরার পর শনিবার রাতে ওই এলাকায় বড় আকারে অভিযান শুরু করে পুলিস। একের পর এক সমাজ বিরোধীর বাড়ি গিয়ে নকল সোনার কয়েন, আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমাজবিরোধীরা জোট বেঁধে প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিস দু’রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। ধোঁয়া ছড়াতেই ভিড় ছত্রভঙ্গ হয়। রাত পর্যন্ত চলে তল্লাশি অভিযান। তবে পুলিসের একাংশের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মদতে দীর্ঘদিন ধরে সমাজবিরোধীরা এমন শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছে। তাদের প্রভাবেই হাতিয়া গ্রামে এই চক্র দিনের পর দিন বিস্তৃত হয়েছে। প্রশাসনের কড়া অবস্থান সত্ত্বেও এই সমাজবিরোধীদের প্রতিরোধের মনোভাব ও দাপট প্রশাসনকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তবে শনিবারের অভিযানে খণ্ডযুদ্ধের কোনও ঘটনা ঘটেনি বলে পুলিস সুপার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নকল সোনার কয়েনের কারবার বন্ধ করতে এই তল্লাশি অভিযান লাগাতার চলবে। কোনওভাবেই এদের রেয়াত করা হবে না। পুরো চক্রকে নির্মূল করতে ধারাবাহিক অভিযান চলবে। যদিও এই সমাজ বিরোধীদের পিছনে শাসকদলের নেতারা যুক্ত বলে দাবি করেছেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাদের মদতেই ওই এলাকা দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের উচিত, দল না দেখে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া। স্থানীয় বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ বলেন, এই ঘটনার পিছনে যে বা যারাই থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে পুলিসকে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলেছি।



