কলম্বো: শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ড ভারত বিরোধী কোনও কার্যকলাপে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই প্রতিশ্রুতি দিলেন দ্বীপরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিশানায়েকে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কায় প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীন। একাধিক প্রকল্পেও টাকা ঢেলেছে বেজিং। চীনের প্রভাব বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে দিল্লির। সেই প্রেক্ষিতে এদিন দিশানায়েকের মন্তব্য স্বস্তি দেবে মোদিকে। এদিন একাধিক বিষয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে চুক্তি হয়। তার মধ্যে অন্যতম প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা। এই প্রথম কলম্বোর সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি করল দিল্লি। এছাড়া শ্রীলঙ্কার ত্রিঙ্কোমালিতে একটি এনার্জি হাব গড়ে তুলতে চলেছে ভারত। ত্রিঙ্কোমালির সামপুরে একটি সৌরবিদ্যুত্ প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধনও করেন দুই নেতা।
চুক্তি পর্বের শেষে বৈঠকে বসেন মোদি ও দিশানায়েকে। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দুজনে। পরে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি ফের অবস্থান স্পষ্ট করে জানাচ্ছি, ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর এমন কিছুর জন্য আমাদের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দেব না।’ শ্রীলঙ্কায় ডিজিটাল আইডেন্টিটি প্রকল্পের জন্য ভারত ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করায় ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। ভারতের তরফে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রিও দিশানায়েকের বক্তব্যের সমর্থন করেন। তিনি জানান, নতুন চুক্তির ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়টি আরও সুগঠিত হবে।
ব্যাঙ্ককে বিমস্টেক সম্মেলন শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীলঙ্কা পৌঁছান মোদি। এদিন রাজধানী কলম্বোর ইন্ডিপেন্ডেন্স স্কয়ারে মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান দিশানায়েকে। এই প্রথম কোনও বিদেশি নেতাকে এভাবে স্বাগত জানানো হল। একইসঙ্গে এদিন মোদিকে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘মিত্র বিভূষণ’ প্রদান করার কথাও ঘোষণা করেন দিশানায়েকে। সম্মান পেয়ে মোদি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি দিশানায়েকে যে সম্মান দিলেন, তাতে আমি গর্বিত। এটি ১৪০ কোটি ভারতীয়রও সম্মান।’ এর আগে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মামুন আব্দুল গায়ুম ও প্যালেস্টাইনের প্রয়াত নেতা ইয়াসের আরাফত এই সম্মান পেয়েছিলেন।