নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০ আগস্ট। দিল্লির অভিজাত সিভিল লাইন্স এলাকা। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার সরকারি বাসভবন। ২২ আগস্ট। পূর্ব দিল্লির গান্ধী নগর এলাকা। মুখ্যমন্ত্রীর সভা। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ফের চরম ডামাডোলের সৃষ্টি হল। যদিও শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে নিগ্রহের কোনওরকম ঘটনা ঘটেনি। তবে এদিন রেখা গুপ্তা গান্ধী নগরের সভা মঞ্চে থাকাকালীনই বিক্ষোভ দেখায় এলাকার দুই বাসিন্দা। অভিযোগ, সভাস্থল ভাঙচুরেরও চেষ্টা করে ওই দুই অভিযুক্ত। মুহূর্তেই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিস। দেখা গিয়েছে, অভিযুক্তদের একজন সালোয়ার কামিজ পরে রয়েছেন। মাথায় ওড়না দিয়ে ঢাকা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অভিযুক্ত কি মহিলার ছদ্মবেশে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার কাছাকাছি পৌঁছতে চেয়েছিল? তাহলে কি আরও বড় পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তর? ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
জানা যাচ্ছে, জেরায় অভিযুক্তরা পুলিসকে জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী নন। সভামঞ্চে উপস্থিত এলাকার বিধায়ক অরবিন্দর সিং লাভলির বিরুদ্ধে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। অভিযুক্তর এই দাবিও অবশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত ২০ আগস্ট নিজের সরকারি বাসভবনেই জনতার দরবার চলাকালীন শারীরিক নিগ্রহের শিকার হন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই বৃহস্পতিবার তাঁর জন্য জেড প্লাস নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দিল্লির পুলিস কমিশনার পদেও পরিবর্তন হয়। নতুন কমিশনার শুক্রবারই দায়িত্ব হাতে পেয়েছেন। এরই মধ্যে নতুন করে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় হাঙ্গামার চেষ্টায় ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। আবারও প্রশ্ন উঠেছে দিল্লি পুলিসের ভূমিকা নিয়ে।
যদিও শুক্রবারের ঘটনার পর দিল্লি পুলিসের সাফাই, সুরক্ষা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি হয়নি। অভিযুক্ত ব্যারিকেড ডিঙিয়ে ভিতরে যেতেই পারেনি। পুলিসি সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত এক যুবকের নাম প্রবীণ শর্মা। এলাকায় তার কেবলের ব্যবসা আছে। পুলিসের জেরায় অভিযুক্ত দাবি করেছে, সে বিগত ৪০ বছর ধরে বিজেপি কর্মী। এদিন গান্ধী নগরে নিজের ভাষণে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেন, আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী দিদি কোনও পরিস্থিতিতেই ভয় পাবে না। ক্লান্তও হবে না। হেরেও যাবে না। যতদিন পর্যন্ত দিল্লির মানুষ তার সমস্ত অধিকার বুঝে না নিচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই মুখ্যমন্ত্রী দিদি তাঁর লড়াই চালিয়ে যাবেন।