নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘরোয়া লিগে ম্যাচ ফিক্সিং ও গড়াপেটাকাণ্ডে গত সোমবারই খিদিরপুর ক্লাবের দুই কর্তাকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। এবার তাদের জালে ধরা পড়ল আরও একজন। মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় ফুটবল এজেন্ট হিসেবে কাজ করা সুজয় ভৌমিককে। সূত্রের খবর, খিদিরপুরের ম্যানেজার আকাশ দাসের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। মূলত ফুটবলার সেটিংয়ের কাজ সামলাতেন এই সুজয়। বুধবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সুজয়ের মতো একাধিক ফুটবল এজেন্ট এই গড়াপেটা ও ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। সঠিক তথ্য ও প্রমাণ হাতে পেতেই একে একে তাঁদের হেফাজতে নিতে শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, লিগ শুরুর আগেই কোন কোন ফুটবলারকে টার্গেট করা হবে, তার একটি তালিকা তৈরি করতেন আকাশ। সেই মতো এজেন্ট মারফত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। এই তালিকায় অবসরের দোড়গোড়ায় থাকা ফুটবলার ও ভিনরাজ্যের খেলোয়াড়ের সংখ্যা ছিল বেশি। হোয়াটসঅ্যাপ কলে তাঁদের ডেকে পাঠানো হতো এয়ারপোর্ট এলাকার হোটেলে। এরপর শুরু হতো দর কষাকষি। লিগের শুরুর ম্যাচগুলিতে ৫০-৬০ হাজার পর্যন্ত টাকা দেওয়া হতো। আর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াত ১২ থেকে ১৪ লাখে। দু’ভাগে হতো পেমেন্ট। বিভিন্ন সংকেতের মাধ্যমে ফুটবলারদের ইঙ্গিত দেওয়া হতো। কখনও জামা বদলে, আবার কখনও গ্যালারিতে ছাতা বন্ধ করে। এমনই সব তথ্য এসে পৌঁছেছে পুলিশের হাতে।