Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাবাদিঘি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ফের বৈঠক, কাটল না জট

ভাবাদিঘির জট কাটাতে ফের আন্দোলনকারীদের নিয়ে বৈঠকে বসল প্রশাসন

ভাবাদিঘি নিয়ে আন্দোলনকারীদের  সঙ্গে ফের বৈঠক, কাটল না জট
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ভাবাদিঘির জট কাটাতে ফের আন্দোলনকারীদের নিয়ে বৈঠকে বসল প্রশাসন। পুলিস, প্রশাসন রেলের অধিকারিকদের সঙ্গে বুধবার দুপুরে আরামবাগে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে বৈঠক হয়। কিন্তু বৈঠক শেষে রেলের জট কাটেনি বলেই প্রশাসন সূত্রে খবর। যদিও প্রশাসনের দাবি, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আলোচনা আগের থেকে এগিয়েছে। এদিনের বৈঠকে ছিলেন হুগলির অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অমিতেন্দু পাল, আরামবাগের মহকুমা শাসক রবি কুমার, অতিরিক্ত পুলিস সুপার কৃশানু রায় সহ একাধিক আধিকারিক। এছাড়া পূর্ব রেলের তরফেও একাধিক ইঞ্জিনিয়ার হাজির হন। ভাবাদিঘির আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় ২৫ জন এসেছিলেন। অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, আপাতত দিঘি থেকে বাসিন্দাদের রোজগার কিছু নেই। তাই মৎস্য দপ্তরের তরফে বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে মাছ চাষ হলে সেখানে আয় কয়েকগুণ বাড়বে। পুকুর পুনরায় খনন করলে তার উৎস তৈরি হবে। এছাড়া উদ্যান পালন দপ্তরের তরফেও পুকুর পাড়ে বৃক্ষরোপণ করে রোজগারের পথ তৈরি হতে পারে। তাঁদের রুজি রোজগার নিশ্চিত করতেই এদিন আলোচনা করা হয়েছে। এরজন্য মাপজোখ করা প্রয়োজন। বাসিন্দারা তাতে সম্মত হয়েছেন।  অন্যদিকে, ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায় বলেন, আমরা চাই রেল আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ করুক। কিন্তু রেল দিঘি বুজিয়ে কাজ করার পক্ষেই বলেছে। আমরা তাতে আপত্তি জানিয়েছি। এক্ষেত্রে তিনটি সমাধান সূত্রও বলেছি। হয় প্রস্তাবিত রেল লাইনের পথ পরিবর্তন করে দিঘিকে বাঁচিয়ে করা হোক। অথবা দিঘিতে সেতু নির্মাণ করা হোক। নইলে ১৮ একর দিঘির পরিবর্তে সমান মাপের দিঘি দেওয়া হোক। কিন্তু রেল সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানায়নি। প্রশাসনের প্রস্তাব মতো দিঘিতে মাপজোখ হতে পারে। কিন্তু আমরা রেলকে তার ছাড়পত্র দিইনি। উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের গোঘাটের ভাবাদিঘিতে জট তৈরি হয়। এক দশক আগে প্রস্তাবিত অংশে কাজ করার চেষ্টা হলে বাধা তৈরি হয়। তারপর থেকে গোঘাট ও কামারপুকুরের মাঝে আর কাজ এগয়নি। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্ট ভাবাদিঘিতে কাজ নিয়ে নির্দেশ দেয়। তারপর প্রশাসন ও রেলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়। সম্প্রতি গ্রামেও যান প্রশাসনের আধিকারিকরা। কিন্তু জট কাটেনি। এদিনও মহকুমা শাসকের অফিসে ভাবাদিঘির জট কাটাতে বৈঠক হয়। যদিও বৈঠকে রেলের কাজ শুরু নিয়ে কোনও সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। তবে পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত রেল প্রকল্প চালু করার দাবিতে সরব হয়েছেন। তাই কবে জট কাটিয়ে রেলের কাজ শুরু হবে সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই। প্রশাসন জানিয়েছে, জট কাটাতে ফের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক হবে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ