সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: ফের কলাবাড়ি চা বাগানে বন্দি হল চিতাবাঘ। বৃহস্পতিবার ভোরে খাঁচাবন্দি অবস্থায় চিতাটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বিন্নাগুড়ি রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ে যান চিতাযিকে। গত এক মাসে ডায়না জঙ্গল সংলগ্ন এই চা বাগান থেকে এনিয়ে তিনটি চিতাবাঘ ধরা পড়ল। ফলে স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। বনদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসা করে চিতাবাঘটিকে গোরুমারা জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কয়েক মাস ধরেই নাগরাকাটা ব্লকের ১ নং আংরাভাসা গ্রাম পঞ্চায়েতের কলাবাড়ি চা বাগানে চিতাবাঘের উৎপাত বেড়ে গিয়েছিল। প্রায় প্রতিদিনই চিতার হামলার ঘটনা ঘটছিল। কখনও বাইক বা সাইকেলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। আবার চা বাগানে কাজ করতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম হয়েছেন বহু শ্রমিক। শুধু তাই নয়, গ্রামে ঢুকে হাঁস, মুরগিও নিয়ে যেত। আতঙ্কে সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া আর বাড়ি থেকে কেউ বের হতেন না। একপ্রকার বাধ্য হয়ে গৃহবন্দি হয়ে কাটাতে হতো গ্রামবাসীদের। খবর পেয়ে বনকর্মীরা এসে চা বাগানে খাঁচা পাতেন। গত ৪ জুন সেই খাঁচায় বন্দি হয় চিতাবাঘ। সেদিনই বাগানের ১৩ নং সেকশনে ফের খাঁচা পাতা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে বন্দি হয় আরও একটি চিতাবাঘ।
বিন্নাগুড়ির রেঞ্জার হিমাদ্রি দেবনাথ বলেন, চিতাবাঘটিকে লাটাগুড়ি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গোরুমারা জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ডায়নার জঙ্গল ও নদী সংলগ্ন এই চা বাগানে গত এক মাসে এনিয়ে তিনটি চিতাবাঘ ধরা পড়ল। ওই বাগানে কাজ করতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় ঝালো ওরাওঁ এবং লব ওরাওঁ গুরুতর জখম হন। তাঁরা এখনও সুস্থ হয়ে ওঠেনি। এই চা বাগানের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একইদিনে বাইক ও সাইকেলের উপর হামলা চালিয়েছিল চিতাবাঘ। ঘটনায় তিনজন জখম হয়েছিলেন। গত চার মাসে এই চা বাগানে চিতাবাঘের হামলায় মোট ১০ জন জখম হয়েছেন। - নিজস্ব চিত্র।